দেশে বিদ্যুৎচালিত যানবাহন (ইভি), সেমিকন্ডাক্টর, কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস এবং কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ব্যাপক শুল্ক-কর অব্যাহতি ও রেয়াতি সুবিধার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশকালে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহনের বিকল্প হিসেবে দেশে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন এবং ইভির যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে তৈরিতে উৎসাহ দিতে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান চার চাকা ও তিন চাকা বৈদ্যুতিক যানবাহনের বডি তৈরি, ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং ও সংযোজনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চ মূল্য সংযোজন করবে, তাদের উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৩ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক ছাড়া সব ধরনের শুল্ক ও কর মওকুফ করা হবে।
অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠান যন্ত্রাংশ সংযোজন ও পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে তুলনামূলক কম মূল্য সংযোজন করবে, তাদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক ছাড়া অন্যান্য সব শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পের জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। এসব শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে ৫ শতাংশ ভ্যাট ছাড়া অন্য সব ধরনের শুল্ক ও কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইভি শিল্পের জন্য প্রস্তাবিত সব রেয়াতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে।
দেশীয় ই-বাইক উৎপাদন ও সংযোজন শিল্পকে উৎসাহিত করতে শুধু উৎপাদনকারী ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান নয়, স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনে নিয়োজিত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স খাতের বিকাশে মোবাইল ফোন, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, এটিএম ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
একইভাবে কম্পিউটার, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধাও ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ ডিজাইন, টেস্টিং ও প্যাকেজিং শিল্পে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ খাতে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানিতে ১ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক ছাড়া রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর এবং অগ্রিম কর ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব পদক্ষেপ দেশের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করবে, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।