নয়াদিল্লির মালভিয়া নগরে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮ বাংলাদেশি আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর উল্লেখ করে আহতদের চিকিৎসা ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে নয়া দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে হাইকমিশন এক বিবৃতি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে হাইকমিশন বলেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আটজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
মালভিয়া নগরের এই অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকসহ সকল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার পরপরই হাইকমিশন ভারতীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করে। বর্তমানে সেই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
হাইকমিশন জানায়, এ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নাগরিকও হতাহত হয়েছেন। ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে নয়জন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়া মোজাম্বিকের দুজন, লাইবেরিয়ার একজন, নাইজেরিয়ার চারজন এবং উজবেকিস্তানের একজন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের আটজন নাগরিক ছাড়াও নেপাল, ক্যামেরুন, কেনিয়া ও কিরগিজস্তানের দুজন করে, লাইবেরিয়ার তিনজন, নাইজেরিয়ার একজন এবং কাজাখস্তানের তিনজন নাগরিক।
সব মিলিয়ে এ ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হাইকমিশন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আহত বাংলাদেশিদের দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনও সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকদের শারীরিক অবস্থার তদারকি করছে।
আহতদের দ্রুত সুস্থতার স্বার্থে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের আত্মীয়-স্বজন ও দর্শনার্থীদের সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে হাইকমিশন।
একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সংকটময় সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশে থাকতে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।