আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ গাছে ইতোমধ্যে মুকুল দেখা গেছে। চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত এমন আবহাওয়া বজায় থাকলে প্রায় সব গাছই মুকুলে ছেয়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। সম্ভাব্য ভালো ফলনের প্রত্যাশায় বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আমচাষিরা।
শীতের শেষ আর বসন্তের শুরুতেই জেলার বিস্তীর্ণ আমবাগানগুলো হলুদ মুকুলে সেজে উঠেছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার অনুকূল সমন্বয়ের কারণে এবার মুকুল আসার হার সন্তোষজনক। মৌসুমের শুরুতেই এমন ইতিবাচক চিত্রে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। তবে শেষ পর্যন্ত ফলন নির্ভর করবে আবহাওয়ার ধারাবাহিকতা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং ঝড়বৃষ্টি পরিস্থিতির ওপর।
জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম। এখানে ফজলি, খিরসাপাত, গোপালভোগ, ল্যাংড়াসহ দেড় শতাধিক জাতের সুস্বাদু আম উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয় এ অঞ্চলের আম। বিশেষ করে মৌসুমে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের ব্যাপক চাহিদা থাকে, ফলে জেলার অর্থনীতিতে আমের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত বছর ফলন ভালো হলেও পাকার মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক আম নষ্ট হয়ে যায়। এতে দাম কমে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েন চাষিরা। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে অনেকেই লোকসান গুনেছেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার মৌসুমের শুরু থেকেই বাগান পরিচর্যায় বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছেন তারা। নিয়মিত সেচ, আগাছা পরিষ্কার, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগ-পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার করছেন চাষিরা।