কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে সময় যত যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসছে।
স্থানীয় সময় সোমবার ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহরে ভবন ধসে পড়ে, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু মানুষ হতাহত হন। এ ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত অন্তত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলারদো দে লা এসপ্রিয়েইয়ার সরকারকে একদিকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে গৃহহীন হয়ে পড়া হাজারো মানুষের আশয়, খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সহায়তা পৌঁছে দিতে নাগরিক সমাজও কাজ করছে।
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েইয়া জানান, সোমবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি হিসেবে এতে প্রায় ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে বেসামরিকভাবে পরিচালিত ডাটাবেসের হিসেবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা সংখ্যা ৪ হাজার ১০০ এর বেশি। সব মিলিয়ে এ ভূমিকম্পে ২৫ হাজার ৮০০টির বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
কলম্বিয়ার রাজধানীতে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য আমারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’
এদিকে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কালি, পেরেইরা, মানিসালেস ও কিবদো শহরে উদ্ধারকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজছেন।
উদ্ধার ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে আটকে থাকা মানুষদের কাছে খাবার ও পানি পৌঁছে দিতে পারলে এই সময়ের পরও তাদের জীবিত উদ্ধারের সুযোগ থাকে।
বুধবার বিকেলে কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের সাংবাদিকদের বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও জীবিত মানুষের উপস্থিতির আলামত পাওয়া যাচ্ছে। তাদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘এখনও জীবিত মানুষদের উদ্ধারের জন্য পরবর্তী ২০ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ।’