নেপাল ও তিব্বতে বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। এই দুর্যোগে তিন হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যেই নেপালের ভোতেকোশি নদীতে পানির স্তর আবার বাড়তে থাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় দুর্গত জেলাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে বন্যার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ধর্ম রাজ উপ্রেতি জানান, উজানে পানির প্রবাহ বেড়েছে বলে চীনা কর্তৃপক্ষ নেপালকে অবহিত করেছে। এরপর সর্বশেষ নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়।
তবে বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকে বারবার পাওয়া সতর্কবার্তায় তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা গোবিন্দ শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘কখনো বলা হচ্ছে বন্যা আসছে, তখন আবার রাতেও উঁচু জায়গায় দৌড়ে যেতে হচ্ছে। আমার ৭২ বছর বয়সী বাবা ও ৭০ বছর বয়সী মা আছেন। আমাকে তাদের বহন করতে হয়। আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’
ভয়াবহ ওই আকস্মিক বন্যার পঞ্চম দিনেও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে রাজধানী কাঠমান্ডুর সঙ্গে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৫০২ জন।