গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাই করতে চালক আতাউর রহমান ওরফে আতা মিয়াকে (৬০) হত্যার ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় ছিনতাই করা অটোরিকশা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার রড, হাতুড়ি ও রশি এবং অটোরিকশা বিক্রির ২২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, ছেলের হত্যার খবর শুনে মানসিক আঘাতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান নিহত আতাউরের মা জহুরা খাতুন (৭৫)।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন: কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া চালার বাজার এলাকার রাজীব খান (২৯) ও মির্জানগর এলাকার নকিবুল হাসান ওরফে রাকিব (২৪)।
পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, গত ২০ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে কাপাসিয়া উপজেলার মির্জানগর এলাকার কৃষক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আতাউর রহমান জীবিকার জন্য প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। ওইদিন রাত ৮টার দিকে সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে একটি নির্জন কলাবাগানের সামনে তাকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা হামলা করে হত্যা করে অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার পরদিন ২১ আগস্ট কাপাসিয়া থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে দস্যুতা ও হত্যা মামলা করা হয়। পরে মামলাটি পিবিআই তদন্তের জন্য গ্রহণ করে।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাডভান্সড আইসিটি, ডিজিটাল ফরেনসিক ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাপাসিয়ার চালার বাজার ও নরোত্তমপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুই আসামি রাজীব ও নকিবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া বাসস্ট্যান্ডের আল-মদিনা এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই করা অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া চোরাই মালামাল জেনেও অটোরিকশাটি কেনা ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে দোকানের মালিক মো. কিবরিয়াকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, আসামিদের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির ২২ হাজার টাকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার রড, হাতুড়ি ও রশি উদ্ধার করা হয়েছে। অটোরিকশাটি ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করে আসামিরা টাকা ভাগ করে নেয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই আরও জানায়, আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে রাজীব খান ও নকিবুল হাসান হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে তারা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। নকিবুলের দূরসম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় আতাউর রহমানকে সহজ টার্গেট হিসেবে বেছে নেন তারা।
পিবিআইয়ের ভাষ্যে, ঘটনার দিন ফোন করে আতাউরকে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর দড়ি দিয়ে গলা চেপে ধরে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মরদেহ ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে নরসিংদীর হাতিরদিয়া এলাকায় গিয়ে বিক্রি করেন আসামিরা।
আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।