নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে রফিকুল ইসলাম মুন্সি (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (২৩ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের হাঁটুভাঙ্গা রেলগেট-সংলগ্ন ভাই ভাই স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দোকান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত রফিকুল ইসলাম মুন্সি হাঁটুভাঙ্গা গ্রামের সাহারাজ খলিফার ছেলে। তিনি দোকানে স্যানিটারি মালামাল, টাইলস ও হার্ডওয়্যার পণ্যের ব্যবসা করতেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিন তিনি রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতেন। গতকাল (শনিবার) রাত ১০টার পরও তিনি বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের লোকজন তাকে মোবাইলে কয়েকবার ফোন করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পরে তারা দোকানে গিয়ে দেখেন, শাটার নামানো কিন্তু তাতে তালা লাগানো নেই। এরপর শাটার খুলে ভেতরে ঢুকতেই তারা রফিকুলের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিক সুরতহালের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। আজ (রবিবার) সকালে সিআইডির বিশেষ ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ করে। পাশাপাশি মর্গেও গিয়ে আলামত সংগ্রহ করা হবে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, রাতে টহল টিমের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি ব্যবসায়ী রফিকুলের রক্তাক্ত মরদেহ তার দোকানের গোডাউনে পড়ে আছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। আজ সকালে সিআইডির বিশেষ ক্রাইম সিন ইউনিট টিম এসে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। এরপর মর্গেও গিয়ে আলামত সংগ্রহ করবে। ঘটনাস্থলে ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দ্রুতই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।