পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ এবং ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকদের ওপর বহিরাগতদের হামলার ঘটনার বিচার দাবিতে সপ্তম দিনের মতো কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে।
রবিবার (১৭ মে) সকাল ১১টা থেকে ক্যাম্পাসে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। আজকের সমাবেশে উপাচার্যের অপসারণ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হাবিবুর রহমান।
এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন ইকোনমিক অ্যান্ড সোশিওলজি সায়েন্স অনুষদের সাবেক ডিন ড. বদিউজ্জামান, অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমান, কর্মকর্তা ড. আমিনুল ইসলাম টিটো, ছাত্র প্রতিনিধি নাহিদ হোসেন, নেছার আহমেদ প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস বর্জন এবং অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
বর্তমান উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবিতে গত ১১ মে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। সে সময় বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় শিক্ষক, কর্মকর্তা, ও কর্মচারীসহ ১০ জন আহত হন।
হামলার ঘটনায় উপাচার্যকে দায়ী করে তার পদত্যাগ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে এ ঘটনায় ২৬ জনকে আসামি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মুকিত মিয়া মামলা করেন।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, হামলায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা সবাই স্থানীয় দুমকি উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এ ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ক্লাস বর্জন কর্মসূচি চলমান রয়েছে।