ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ছয় আসামির মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে অভিযান চালিয়ে বাহার মিয়া (২২) নামের ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই দিন রাতে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।
অন্য আসামিরা হলেন জাকির (৩৩), নাঈম (২৪), সোহাগ মিয়া (২১), মোকলেস (৩৫) ও আলামিন ওরফে জিকির (৪০)।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ওয়াজ শুনতে স্থানীয় একটি মাদরাসায় যাচ্ছিল মেয়েটি। পথে একই গ্রামের জাকির, নাঈম, সোহাগ, মোকলেস, আলামিন ও বাহার তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জাকির, নাঈম ও সোহাগ ধর্ষণ করেন। এ সময় অন্য তিনজন ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
ঘটনার পর রাত ১১টার দিকে আসামিরা কিশোরীকে তার বাড়ির পাশে রেখে যান। এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিশোরীর বাবা জানান, ঘটনার কয়েক দিন পর তার মেয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। পরে গত বৃহস্পতিবার তিনি মেয়েকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসীরা স্থানীয়ভাবে বিচারের আশ্বাস দেন। তবে কোনো সুরাহা না হওয়ায় তারা মামলা করেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, শনিবার রাতে ছয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে বাহার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, ঘটনার বেশ কয়েক দিন পর ভুক্তোভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এতে আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার পরও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি জানা যাবে।