মালয়েশিয়া প্রবাসী উজ্জ্বল হোসেন নামের যশোরের শার্শা উপজেলার এক যুবকের মরদেহ মৃত্যুর ১৭ দিন পর দেশে ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মালয়েশিয়া থেকে একটি ফ্লাইটে তার কফিনবন্দি মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেন।
আজ (শুক্রবার) সকাল ৮টার দিকে কফিনে করে তার মরদেহ উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।
উজ্জ্বল হোসেন ওই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে এবং একটু সুখের আশায় ২০১৫ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান উজ্জ্বল। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ শেষ হলো নিথর দেহে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরে।
এর আগে, দীর্ঘ আট বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে ২০২৩ সালে দেশে আসেন তিনি। এরপর বিয়ে করেন। নতুন সংসারের স্বপ্নে তখন রঙিন হয়ে ওঠে জীবন। কিন্তু সেই সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র তিন মাস পরই স্ত্রীকে রেখে আবারও মালয়েশিয়ায় ফিরে যেতে হয় উজ্জ্বলকে।
মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর গত ১৫ দিন আগে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন উজ্জ্বল। সহকর্মীরা তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মালয়েশিয়ার সুলতানা আমিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে।
স্বজনেরা বলেন, দূতাবাসের সহায়তায় আমরা তার মরদেহ দেশে আনতে পেরেছি। আজ সকাল ১১টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহতের স্বজন আরিফুল ইসলাম জানান, তার মৃত্যুতে পরিবার অনেকটা ভেঙে পড়েছে। এই শোক কীভাবে কাটাব তা বুঝতে পারছি না।
বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, উজ্জ্বলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আসার খবর পেয়ে আমরা সেখানে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।