লালমনিরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীকে আতিকুল ইসলামেদিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী এ রায় দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকায় বসতঘর থেকে মিতু আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার দুই বছর আগে মিতু আক্তারের সঙ্গে আতিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আতিকুল স্ত্রী মিতুকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। পরে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরদিন সকালে পাঁচ মাস বয়সী মেয়ের কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে মিতুর মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
রায় ঘোষণাকালে আদালত উল্লেখ করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। এছাড়া জব্দ করা আলামত ধ্বংসের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বাদীর পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।