সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে তেলবাহী ট্যাংক লরি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন। তারা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: ওসমানীনগর উপজেলার মোহাম্মদপুর দরকা গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে ও অটোরিকশাচালক লালন মিয়া (২৫), সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরমসী গ্রামের নিয়ামত আলী (৩৫), তার স্ত্রী অযুফা বেগম (৩০) ও তাদের মেয়ে মারিয়া (৮)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া পদ্মা অয়েল কোম্পানির একটি তেলবাহী ট্যাংক লরি ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে চালক ও শিশুসহ সাতজন গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে আহতদের উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়।
নিহত নিয়ামত আলীর মামা আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘আমার ভাগনা মারা গেছে। ভাগনার বউ ও মেয়েসহ তিনজন মারা গেছে। একই পরিবারের পাঁচজন ওই গাড়িতে ছিল। তাদের মধ্যে তিনজন মারা গেছে।’
তিনি জানান, নিহতদের মা-বাবা, ভাইসহ স্বজনরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি হতাহতদের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন তারা।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে প্রথমে একজন নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত বাকি তিনজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে, গত ৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একই মহাসড়কের ওসমানীনগরে ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের সংঘর্ষে ১১ জন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।
পরে ১৬ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে ফাইজা আক্তার নামে এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সপ্তম রায় প্রীতমসহ আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।