সিলেটে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৫ জনে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজনের বাড়ি সিলেটের গোয়াইনঘাটে এবং অন্যজনের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়। দুজনেরই বয়স এক বছরের কম।
৯ মাস বয়সী গোয়াইনঘাটের শিশুটি সিলেটের শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। অন্যদিকে ৬ মাস বয়সী দিরাইয়ের শিশুটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিল।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২২৯ জন ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৮ জন ভর্তি হয়েছে শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৬৬, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৬, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ১২ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে সাতজন ভর্তি হয়েছে।
এছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে চারজন ও ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে নতুন ভর্তি হয়েছে।
নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ৫৫২ শিশু। তাদের মধ্যে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০৩ জন ভর্তি রয়েছে। এছাড়া শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৭০ ও সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭৭ জন রয়েছে।
পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ২৮, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৭, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১০ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন ভর্তি আছে।
এছাড়া গোলাপগঞ্জে ৭, বিশ্বনাথে ৫, কোম্পানীগঞ্জে ৪, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৩, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ৩, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৩, ফেঞ্চুগঞ্জে ২ ও ধর্মপাশায় ২ জন চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৫ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৪২২, সুনামগঞ্জে ৩৫৭, হবিগঞ্জে ১৫৮ ও মৌলভীবাজারের ১৫৮ জন। হবিগঞ্জের সংখ্যার মধ্যে দুজন রুবেলা রোগীও রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে মোট ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে হামের উপসর্গে মৃত্যু ১৭৫ জনের ও নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।