নড়াইল সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে সরকারি কর্মকর্তার নিকট উপকারভোগীদের তালিকা দাবি এবং তালিকা না পেয়ে কর্মকর্তাকে মারধর, সরকারি কাজে বাঁধা ও কার্যালয়ের জিনিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
রবিবার (২৮ জুন) রাতে সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বাদী হয়ে এক যুবকের নাম উল্লেখসহ ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।
মামলার আসামি মো.জিসানুর রহমান (৩০) নড়াইলের যদুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে যুবদল নেতা দাবি করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মো. জিসানুর রহমান প্রায়ই বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য চাইতেন। তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গালিগালাজ করে চলে যেতেন।
সর্বশেষ, গতকাল (রবিবার) বিকেলে জিসানুর রহমান অজ্ঞাতনামা আরও চার পাঁচজনকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তিনি জেলার সব সুবিধাভোগী সদস্যের প্রদর্শনী তালিকা দাবি করেন। এ সময় মৎস্য কর্মকর্তা তাকে জানান, এর আগে তাকে একাধিকবার তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ কথা শুনে পর জিসানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে কিলঘুষি মেরে নাক, মুখ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। পরে কার্যালয়ের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, টেবিলের ওপর থাকা প্রায় ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর ভেঙে ফেলে জিসানুর রহমান। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন তিনি। পরে অভিযুক্ত জিসানুর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. জিসানুর রহমান বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রদর্শনীর উপকারভোগীদের নামের তালিকা চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে তথ্য না দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তথ্য না পেয়ে ফিরে আসার সময় কার্যালয়ে থাকা এক কর্মচারী হঠাৎ বলে ওঠেন, ‘স্যার, সবকিছু মোবাইলে ভিডিও করে নিয়ে যাচ্ছেন।’ একপর্যায়ে কর্মচারীরা আমাকে মেঝেতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। মারপিটের সময় যে কারও হাতে লেগে তাদের কম্পিউটার ভেঙে গেছে। তারা আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভাঙচুর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, তারা যখন আমাকে মেঝেতে ফেলে দেন, তখন আমি সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরিহিত গেঞ্জি ধরে টান দিলে গেঞ্জি ছিড়ে যায়। আমি একা কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। আমি কেন কর্মকর্তাকে মারতে যাব? কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আমাকে মারধর করে আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেছেন।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে রাত ৯টার দিকে মামলাটি নেওয়া হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।