ইউপি নির্বাচন
স্থানীয় নির্বাচনে কলঙ্ক নিতে চায় না সরকার: শাহে আলম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার বিন্দুমাত্র কোনো কলঙ্ক নিতে চায় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার ও প্রশাসন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশের সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার এবং প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচন কমিশন যাদের দায়িত্ব দেবে, মাঠপর্যায়ের বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে বলা হবে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং সব প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ দেশে দীর্ঘদিন ধরে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়নি। আমরা চেষ্টা করব, মানুষ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন পায়।
নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব কমিশনের। সরকার ও প্রশাসন যাতে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করে, সেটিই সরকারের অবস্থান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি বরাদ্দ দেওয়া অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে আনেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যে নির্বাচন শেষ করতে সরকার নির্বাচন কমিশনকে বারবার অনুরোধ জানাচ্ছে। কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে না পারলে বরাদ্দের অর্থ পরবর্তী অর্থবছরে চলে যেতে পারে।
মীর শাহে আলম বলেন, আমরা প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রেখেছি। এখন তারা নির্বাচন শেষ করতে না পারলে বাজেট আমাদের রয়ে যাবে, পরের অর্থবছরে চলে যাবে। এই সিদ্ধান্তটা তাদের নিতে হবে।
আগামী জুনের মধ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করা সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান মীর শাহে আলম।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মে মাস পর্যন্ত চললে বাকি নির্বাচনগুলো জুনের মধ্যে আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনই জবাব দিতে পারবে। নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব কমিশনের। সরকার শুধু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার অনুরোধ জানাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সচিবদের নিয়ে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই বৈঠকে প্রাথমিকভাবে কিছু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বাকি নির্বাচনগুলোর তারিখ ও আয়োজনের পদ্ধতিও সংশ্লিষ্ট সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবে কমিশন।
৫ দিন আগে
পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, শুরু ২১ জানুয়ারি
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশনের এক সভায় নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়।
সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের পাঁচ ধাপে ভোটগ্রহণের তারিখ জানান।
ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে ও পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইউপি নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছিল ইসি। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে এ নির্বাচন আয়োজনের কথা ছিল।
তবে ১৭ সেপ্টেম্বর ইসির সঙ্গে এক বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো নভেম্বর ও ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু না করার পরামর্শ দেয়। ওই সময়ে বিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর ইসি জানায়, নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করার আগে এ বিষয়ে আরও আলোচনা করা হবে।
৬ দিন আগে
জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর কথা ভাবছে ইসি
স্কুলগুলোর বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু করা কঠিন হবে, তাই আগামী জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ভোটগ্রহণের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানান।
ইসি আনোয়ারুল বলেন, ‘সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা হয়। সেটি বিবেচনায় নিয়ে আমরা তফসিল নির্ধারণ করব। ডিসেম্বরের মধ্যে এসব পরীক্ষা শেষ হলে ইনশাআল্লাহ জানুয়ারির দিকে নির্বাচন আয়োজন করতে পারব।’
এর আগে চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি), যার প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল।
এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে কমিশন। সেখানে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ইউপি নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না।
সভার পর নির্বাচন কমিশন জানায়, স্থানীয় নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করার আগে আরও আলোচনা করা হবে।
এদিকে সরকারের চাপে ইসি সম্ভাব্য নির্বাচনের তারিখ থেকে সরে এসেছে—এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন ইসি আনোয়ারুল।
তিনি বলেন, ‘অনেকে অনেক কথা বলবে। কিন্তু আপনাদের কাছে কি মনে হয়েছে যে ইসি কারও চাপে এ পর্যন্ত কোনো কাজ করছে? নির্বাচন কমিশন বাস্তবতাবিবর্জিত কোনো কাজ করে না, আইনের বাইরে যায় না, সংবিধানের বাইরে যায় না। সংবিধান, আইন ও বাস্তবতা বিবেচনায় আমরা কাজ করি।’
এছাড়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা সমীচীন নয় বলেও জানান আনোয়ারুল ইসলাম।
সেই সঙ্গে তিনি বলেন, স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয় এবং শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে জন্য নভেম্বর-ডিসেম্বরের পর ইউপি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করছে কমিশন।
২৪ দিন আগে
ইউপি নির্বাচনের সময়সীমা পর্যালোচনা করা হবে: ইসি সানাউল্লাহ
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত পর্যালোচনা করে নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত পর্যালোচনা করা হবে। তবে সবাই একমত হয়েছেন, আগামী ৬ জুনের আগেই নির্বাচন শেষ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে জাতীয় উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বেলা আড়াইটায় সভা শুরু হয়। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ ২০টির বেশি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
ইসি সানাউল্লাহ জানান, সভায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় নিয়ে বেশ কয়েকটি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তারা অনুরোধ করেছেন, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে স্কুলগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে—বিষয়টি যেন আমরা বিবেচনায় নিই।
কমিশনার বলেন, জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য কিছুটা সময় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মধ্যবর্তী সময়েও আরেকটি সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, রমজান শেষ হওয়ার পরপরই এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।
গত সোমবার ঘোষিত সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ প্রসঙ্গে সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম, ১৭ সেপ্টেম্বরের সভার পর এটি চূড়ান্ত করব।’
সভায় চার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে ইসি গত সোমবার সারা দেশে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করে। এর প্রথম ধাপের নির্বাচন ১২ নভেম্বর আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার দুই মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, ইসি সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করার আগে সরকার এ বিষয়ে অবগত ছিল না।
৩১ দিন আগে
আলোচনার পর স্থানীয় নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তনের সুযোগ আছে: ডা. জাহেদ
ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করলেও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তা পরিবর্তন, পিছিয়ে দেওয়া কিংবা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
ডা. জাহেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্ধারিত সময়সীমা নেই। নির্বাচন কমিশন তাদের মতো করে একটি তারিখ ঘোষণা করেছে। সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচন করবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে সময়সূচি ঘোষণা করেছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সেটি পরিবর্তন, পিছিয়ে দেওয়া কিংবা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্ধারিত সময়সীমা নেই। এ বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের মতো করে একটি তারিখ ঘোষণা করেছে। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যই সরকারের কাছে থাকা তথ্য।
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে তারিখ দিয়েছে ওই তারিখেই নির্বাচন হবেই, আবার হবেই না, ইউ ক্যান নট সে দ্যাট। সরকারের এরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
সরকারের বিভিন্ন বিবেচনা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের জন্য সব দিক থেকে প্রস্তুতি ঠিক আছে কি না, তা বিবেচনা করে সময় নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন হলে সময়সূচি এগোনো বা পেছানো হতে পারে।
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরাসরি সাংবিধানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও অন্য নির্বাচনগুলো আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান উপদেষ্টা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সেই কাঠামোর মধ্যে পড়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী নিজস্ব এখতিয়ারে নির্বাচন আয়োজন করবে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচির ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তিনি আগে কখনও বলেননি যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের একক বা একচ্ছত্র এখতিয়ার।
নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করে আইন ভঙ্গ করেছে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে চাননি উপদেষ্টা। তিনি সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানতে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি আইন ভঙ্গ করেছে—এভাবেও বলতে চাই না। আমার মনে হয়, সবচেয়ে ভালো হয় আপনারা নির্বাচন কমিশনের কাছে একটু ক্ল্যারিফাই করুন।’
ইসি ও সরকারের সংঘাত নেই
এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি নিয়ে সরকার ও কমিশনের মধ্যে কোনো ‘গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টিকে সংঘাত বা গ্যাপ হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করেই নির্বাচন করবে। নির্বাচন অবশ্যই হবে। তবে কবে হবে, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনা করা হবে।
ডা. জাহেদ বলেন, বিষয়টিকে সংঘাতের মতো করে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে, এরকম কিছু তিনি মনে করেন না।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না। ব্যক্তিরাই প্রার্থী হবেন।
ডা. জাহেদ জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক ছিল। সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়েছে। এবার সে ব্যবস্থা নেই।
তিনি বলেন, ‘আগামী যে লোকাল গভর্মেন্ট ইলেকশন আছে, তাতে কোনো দল নির্বাচন করছে না। ওখানে নির্বাচন করছে ব্যক্তিরা।’
তবে বিভিন্ন দলের সমর্থিত প্রার্থী থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন দল ইতোমধ্যে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করছে। ফলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, একই দল থেকে একাধিক প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। অন্য দলের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলীয় প্রতীকের বাইরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আগের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আইন পরিবর্তনের প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান জানান, ভবিষ্যতে আইন পরিবর্তন করে উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সরকার সরাসরি পরিচালনা করবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তাও করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি কখনও এমন আইন করি যে উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সরকার পরিচালনা করবে নিজে সরাসরি, নির্বাচন কমিশনকে আমরা এই দায়িত্ব দেব না, ধরুন, এরকম যদি সিদ্ধান্ত হয়, উই ক্যান ডু দ্যাট।’
৩৩ দিন আগে
ইউপি নির্বাচনের তারিখ নিয়ে সরকার কিছু জানে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছু জানে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
গতকাল (সোমবার) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের কমিশনের প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমরা ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের নির্বাচন করতে পারব।
এ ধাপে তিনি প্রায় ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক সময়সূচি অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন হবে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ১২ এপ্রিল ও সপ্তম ধাপ ২৭ মে অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে আজ (মঙ্গলবার) মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনাদের মতো আমরাও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পত্রিকায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং টেলিভিশনগুলোতে দেখেছি যে, নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কয়েক ধাপে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে শুধু এইটুকুই জানাতে চাই, এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা আছে নির্বাচন করার। কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর প্রস্তুতি সভা বা আইনশৃঙ্খলা কমিটি, এ ধরনের সভা করার পরেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় থাকে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আবারও রিপিট করছি, নির্বাচন কমিশন যে তারিখগুলো ঘোষণা করেছে, এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার এ ব্যাপারে কিছু জানে না।’
৩৩ দিন আগে
প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন ১২ নভেম্বর
দেশজুড়ে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সে অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৬৩ জেলার ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কমিশনের প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব প্রাথমিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, আমরা ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের নির্বাচন করতে পারব। এ ধাপে তিনি প্রায় ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক সময়সূচি অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন হবে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ১২ এপ্রিল ও সপ্তম ধাপ ২৭ মে অনুষ্ঠিত হবে।
সারা দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ইসি সানাউল্লাহ।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবে কমিশন। ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে দুজন করে প্রতিনিধি এসব সংলাপে আমন্ত্রণ পাবেন বলে জানিয়েছেন ইসি সালাউল্লাহ।
এছাড়া ইসি জানিয়েছে, ঠাকুরগাঁও ছাড়া দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে ইউপি নির্বাচন শুরু করার চেষ্টা করা হবে। কারণ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে ইসি। আগামী ২৯ অক্টোবর ওই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
৩৪ দিন আগে
ইউপি নির্বাচন: ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের গুলিতে শিশু নিহত
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থামাতে গিয়ে পুলিশের ছোড়া গুলিতে দুই বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে।
বুধবার উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ভাংবাড়ি কেন্দ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম আশা। সে উপজেলার মিডডাঙ্গী বাজার এলাকার বাদশাহের মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভোটের ফলাফল দেখতে শিশুটিকে কোলে নিয়ে ওই কেন্দ্রে যান তার মা। এসময় ফলাফলকে কেন্দ্র করে মেম্বার প্রার্থী জলিল-ফয়জুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে গুলি ছুড়ে পুলিশ। এসময় গুলিটি শিশুর মাথায় লাগে। এতে তার মাথার খুলি উড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশুটি।
পরে বিক্ষুব্ধ জনতা শিশুর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাণীশংকৈল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ।
তিনি বলেন, ‘পুলিশের গুলিতে একটি শিশু মারা গেছে। স্থানীয়রা ভোটের ফলাফল আনতে বাধা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফলে গুলি ছুড়তে বাধ্য হয় পুলিশ।
আরও পড়ুন: বাঁশখালীর বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে আহত আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু
বগুড়ায় পুলিশের গুলিতে ২ ডাকাত আহত, অস্ত্রসহ আটক ৬
১৫৪৪ দিন আগে
চট্টগ্রামে ইউপি নির্বাচনে বিরোধের জেরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের বাসু বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।নিহত রমজান আলী (৩৫) ইছানগর পাথরঘাটা ৭নং ওয়ার্ডের বাদশা ফকিরের ছেলে। তিনি কর্ণফুলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের পাঠাগার সম্পাদক।
আরও পড়ুন: লটারির টিকিট কেনা নিয়ে বিরোধে যুবক খুন!স্থানীয়রা জানান, কর্ণফুলী থানার চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাতে সদস্য পদে জয়ী সাইদুল হক মেম্বারের অনুসারী খোরশেদ ও শাহেদ মারধর ও ছুরিকাঘাত করে পরাজিত মেম্বার ইসহাকের অনুসারী রমজান আলীকে।তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।এ ব্যাপারে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ জানান, নির্বাচনী সহিংসতায় রমজান আলী নামের এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আটকে অভিযান চলছে।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ‘দেবরের হাতে’ ভাবি খুন
১৫৮৫ দিন আগে
চট্টগ্রামের এওচিয়া ইউপির নির্বাচন স্থগিত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইসি জানায়, ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এওচিয়া ইউপির নির্বাচনী তফসিল পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: চেয়ারম্যান প্রার্থীর হুমকি: চাম্বল ইউপি নির্বাচন স্থগিত করল ইসি
এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারিসহ পদ্ধতিগতভাবে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।
১৫৯৬ দিন আগে