মালদ্বীপ
সামুদ্রিক মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা জোরদারে মালদ্বীপে সার্কের আঞ্চলিক বৈঠক
মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে দুই দিনব্যাপী সার্কের আঞ্চলিক পরামর্শ সভা শুরু হয়েছে। এশিয়ার বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক (মেরিন ফিন ফিশ) মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং এ খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) শুরু হওয়া এ সভায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর নীতিনির্ধারক, জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা, গবেষক এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সভার আয়োজন করেছে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার, মালদ্বীপের মৎস্য, কৃষি ও মহাসাগরীয় সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের মৎস্য, কৃষি ও মহাসাগরীয় সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুথথালিব।
তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মৎস্য খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।’
অনুষ্ঠানে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছ: বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি ও সহযোগিতার সম্ভাবনা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মৎস্যবিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল ওহাব।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত আহরণ, অবৈধ, প্রতিবেদনবিহীন ও অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামুদ্রিক আবাসস্থলের অবক্ষয় দক্ষিণ এশিয়ার মৎস্যসম্পদের জন্য বড় সমস্যা। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ একান্ত জরুরি।
সভায় নেপালে অবস্থিত সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, ‘টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা, যৌথ গবেষণা, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজন এবং মৎস্য খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সার্ক দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।’
সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে। এক্ষেত্রে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়িত সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম গঠন করে আঞ্চলিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।’
সুশীলনের প্রধান নির্বাহী মোস্তফা নুরুজ্জামান বলেন, ‘সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছ দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই এ সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহারে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।’
এ সময় অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী এবং ঢাকায় অবস্থিত সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (মৎস্য) ড. মো. শরীফুল ইসলাম সভার উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সার্ক সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, নীতিনির্ধারণী সংলাপ এবং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করাই এই পরামর্শ সভার মূল লক্ষ্য।’
দুই দিনব্যাপী এ পরামর্শ সভায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নীতি সমন্বয়, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে।
৮ দিন আগে
বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সরাসরি জাহাজ চলাচলের উদ্যোগ
বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশিদ নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে দুজনের আলোচনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা।
সাক্ষাৎকালে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। তাই মালদ্বীপ বাংলাদেশ থেকে পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি করতে পারে। এছাড়া মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি জাহাজ চলাচল চালু হলে উভয় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে আমি আশা করি।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় উভয় দেশই ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মেরিটাইম সেক্টরে সমৃদ্ধ। বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ টেক্সটাইল, ফল-মূল, শাকস-বজিসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী আমদানি করে থাকে। একইভাবে মালদ্বীপেও বাংলাদেশের ১ লাখের বেশি অভিবাসী সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা মালদ্বীপের নির্মাণ, পর্যটন, বিপণন, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য খাতসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই কাজ করছেন। এর মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দুই দেশেরই অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পুলিশ-জনগণের সম্পর্ক পুনঃস্থাপন জরুরি: নৌপরিবহন উপদেষ্টা
এ সময় মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশীদ বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে শিগগিরই সরাসরি জাহাজ চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মালদ্বীপের ব্যবসায়ীরাও এ বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক।
তিনি বলেন, উভয় দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ আরও বাড়াতে সরাসরি জাহাজ চলাচল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কনটেইনার, সাধারণ যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের পাশাপাশি সমুদ্রপথে উভয় দেশের মধ্যে ক্রুজ সার্ভিস চালু করা যেতে পারে। এর মধ্য দিয়ে উভয় দেশের পর্যটন বিকশিত হবে।
এ সময় বাংলাদেশের মেরিন অ্যাকাডেমিগুলোতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য মালদ্বীপ থেকে ক্যাডেট পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের মেরিন অ্যাকাডেমিগুলোতে মেরিনবিষয়ক আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মালদ্বীপের নিয়মিত ক্যাডেটরা এখান থেকে উন্নতমানের প্রশিক্ষণ নিতে পারে।
শিউনিন রশীদ নৌপরিবহন উপদেষ্টার এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মালদ্বীপ সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিনিময় কর্মসূচিতে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী। মালদ্বীপের ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ট্রান্সশিপমেন্ট নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন।
এছাড়া দুই দেশের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন হাইকমিশনার।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক বিদোষ চন্দ্র বর্মণ।
আরও পড়ুন: ২ বছরের মধ্যে মোংলা বন্দরে কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে: নৌপরিবহন উপদেষ্টা
৫৮৯ দিন আগে
ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলতে ঢাকায় মালদ্বীপ ফুটবল দল
স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টিয়ার-১ ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলতে ঢাকায় পৌঁছেছে মালদ্বীপ জাতীয় ফুটবল দল।
সোমবার (১১ নভেম্বর) ফুটবল দলটি ঢাকায় পৌঁছায়।
আগামী ১৩ ও ১৬ নভেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মালদ্বীপ জাতীয় দলের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল।
মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশ দলের চূড়ান্ত অনুশীলন এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় একই ভেন্যুতে অনুশীলন করবে সফরকারী মালদ্বীপ দল।
বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপ ১৯৮৪ সাল থেকে ১৮টি ম্যাচ খেলেছে, যেখানে উভয় দল ছয়টি জিতেছে, ছয়টি ড্র করেছে এবং বাকি ছয়টি ম্যাচ হেরেছে।
আরও পড়ুন: সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৪: শিরোপাজয়ী বাংলাদেশি তারকাদের কথা
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে ১৮৬তম স্থানে থাকা বাংলাদেশ খেলবে ১৬৩তম স্থানে থাকা মালদ্বীপের বিপক্ষে।
ফুটবল ফেডারেশনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ের পরে এই বছর মালদ্বীপের দলটির জন্য এটি প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে।
আগেরবার খেলার মাঠে মুখোমুখি হয়ে ২-১ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ এবং অ্যাওয়ে ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছিল বাংলাদেশ।
এরই মধ্যে বুধবারের (১৩ নভেম্বর) ম্যাচের টিকিটের দাম ঘোষণা করেছে বাফুফে।
টিকিটের হার: ভিআইপি প্রতিটি টিকিটের মূল্য ৮০০ টাকা, ক্যাটাগরি-১ ও ২ এর টিকিট ৩০০টাকা করে।
এর আগে ২৭ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা ।
২৭ সদস্যের বাংলাদেশের প্রাথমিক স্কোয়াড হলো।
গোলরক্ষক: আনিসুর রহমান জিকো, মেহেদী হাসান শ্রাবণ, মিতুল মারমা ও সুজন হোসেন।
ডিফেন্ডার: সাদ উদ্দিন, তপু বর্মন, রাব্বি হোসেন রাহুল, মুরাদ হাসান, মেহেদী হাসান, শাকিল আহাদ তপু, রহমত মিয়া, শাকিল হোসেন, ঈসা ফয়সাল ও তাজ উদ্দিন।
মিডফিল্ডার: চন্দন রায়, মজিবুর রহমান জনি, সোহেল রানা, মোহাম্মদ হৃদয়, সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানি, পাপন সিং ও দিদারুল আলম।
ফরোয়ার্ড: রাকিব হোসেন, শেখ মোরসালিন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, শাহরিয়ার ইমন, পিয়াস আহমেদ নোভা ও মিরাজুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: সাফজয়ী দলকে বিসিবিও দেবে আর্থিক পুরস্কার
সাফজয়ী নারী দলকে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কোটি টাকা পুরস্কার
৬০৫ দিন আগে
মালদ্বীপে বিমান পরিষেবায় পুরস্কার পেলেন ইউএস-বাংলার জাহিদুল ইসলাম
আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালিত হওয়া বিমান পরিষেবার মধ্যে বেস্ট স্মাইল ক্যাম্পেইনে সেরা পুরস্কারে ভূষিত হলেন বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারি বিমানসংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মালদ্বীপ এয়ারপোর্ট ম্যানেজার মো. জাহিদুল ইসলাম।
রবিবার (১৩ অক্টোবর) মালদ্বীপের ভেলেনা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে বেস্ট স্মাইল ক্যাম্পেইনে সেরা হওয়ার পুরস্কারটি মো. জাহিদুল ইসলামের হাতে তুলে দেন মালদ্বীপ এয়ারপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মিস্টার ডোনা।
আরও পড়ুন: বোমা আতঙ্কে নিউইয়র্কগামী বিমানের জরুরি অবতরণ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩৪টিরও বেশি এয়ারলাইন্স কোম্পানি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল।
সদা হাস্যমুখ, ভালো আচরণ ও যাত্রীবান্ধব ম্যানেজার হিসেবে সুপরিচিত মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বেস্ট স্মাইল ক্যাম্পেইনে সেরার পুরস্কারটি অর্জন করায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা আনন্দিত।
মো. জাহিদুল ইসলাম যশোরের শার্শা উপজেলার বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: বিমানবন্দরের হর্নমুক্ত ঘোষিত এলাকায় বেজেই চলেছে হর্ন
৬৩৩ দিন আগে
মালদ্বীপের মাফুশি দ্বীপ ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
বিধ্বস্ত জলরাশির ঐকতানের সঙ্গে রোদের আলোয় সোনালি বালির মৃদু আলিঙ্গন, এর সঙ্গে সাগরতলের জীববৈচিত্র্যের মাঝে নিজেকে পরখ করার নেশা কিছুতেই উপেক্ষা করার নয়। গভীর রাতে শীতল সৈকতে আকাশ ভরা তারার সমীপে নিজেকে সপে দেওয়ার মাঝেই যেন চির প্রশান্তি। এই প্রাকৃতিক উপাচারগুলো নিয়ে ভারত মহাসাগরের বুকে মালদ্বীপের প্রতিটি দ্বীপ সরবে জানান দেয় নিজেদের উপস্থিতির কথা। কিন্তু মাফুশি নামের দ্বীপটি যেন আদ্যোপান্ত শব্দহীন এক নৈসর্গ। খুব কম সময়ের মধ্যে মালদ্বীপের জনপ্রিয় পর্যটন স্থানে পরিণত হওয়া এই দ্বীপটি নিয়েই আজকের ভ্রমণ কড়চা। চলুন, মালদ্বীপের মাফুশি দ্বীপ ভ্রমণ নিয়ে বিশদ জেনে নেওয়া যাক।
মাফুশি দ্বীপের ভৌগলিক অবস্থান
দ্বীপ রাষ্ট্র মালদ্বীপের রাজধানী মালে থেকে ২৬ দশমিক ০৮ কিলোমিটার দক্ষিণে মাফুশি দ্বীপের অবস্থান। মাফুশি দ্বীপপুঞ্জের এই মধ্যমণির ১ হাজার ২৭০ মিটার দীর্ঘ এবং ২৬৫ মিটার প্রশস্ত। অ্যাটলে অবস্থিত বাকি দ্বীপগুলোর তুলনায় এটি সব থেকে বড়।
মাফুশি দ্বীপ ৩টি এলাকায় বিভক্ত। স্থানীয় অধিবাসীদের এলাকা, পর্যটন এলাকা এবং দ্বীপের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ে কারাগার এলাকা। পর্যটন এলাকাটি আবার বিকিনি সৈকত, পাবলিক সৈকত এবং ওয়াটার-স্পোর্টস সৈকতে বিভক্ত।
মাফুশি দ্বীপের ইতিহাস ও নামকরণ
এই দ্বীপবাসীরা মাছ ধরা সম্প্রদায় হিসেবে সুপরিচিত ছিল। দু-একজন পর্যটকের আনাগোণা হওয়া শুরু করতেই এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। কম খরচে গেস্টহাউস পাওয়ার জন্য মাফুশি দ্বীপের বেশ সুখ্যাতি রয়েছে। প্রথম দিকে এই কারণেই স্থানীয় দ্বীপগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছিল।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে ভারতের ডাবল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার উপায়
২০০৪ সালের বিধ্বংসী সুনামি দর্শনীয় জায়গাটির অনেক স্থাপনাই নষ্ট করে দেয়। পরবর্তীতে অবশ্য অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যটনকে আবার পুনরুজ্জীবিত করা হয়।
‘মাফুশি’ নামটির উৎপত্তি মালদ্বীপের শব্দ ‘মা’ (maa) এবং ‘ফুশি’ (Fushi) থেকে। ‘মা’-এর অর্থ ‘বড়’ এবং ‘ফুশি’-এর অর্থ ‘দ্বীপ’। সমগ্র দেশের অন্যান্য অধ্যুষিত দ্বীপের তুলনায় এই দ্বীপটি বড় বলে এরকম নামকরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপের মাফুশি দ্বীপ ভ্রমণের উপায়
মালদ্বীপের পর্যটন ভিসা
মাফুশি দ্বীপে ঘুরতে যেতে হলে প্রথমেই মালদ্বীপের ভিসা নিশ্চিত করতে হবে। মালদ্বীপ সরকার বাংলাদেশিদের মালদ্বীপ ভ্রমণের জন্য আগমনী ভিসা দেয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি পর্যটকদের দেশ ছাড়ার পূর্বে পর্যটন ভিসার জন্য কোনো রকম আবেদনের প্রয়োজন হয় না। তবে মালদ্বীপের বিমান বন্দরে অভিবাসন ছাড়পত্র পেতে কিছু প্রাথমিক শর্ত রয়েছে যেগুলো আগে থেকেই নিশ্চিত করতে হয়। শর্তগুলো হলো:
- কমপক্ষে ১ মাস মেয়াদী একটি বৈধ পাসপোর্ট। এমনকি শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বিষয়টি প্রযোজ্য।
- আসা-যাওয়ার টিকিট, অগ্রীম হোটেল বুকিংয়ের প্রমাণপত্রসহ মালদ্বীপে থাকার জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের জন্য আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রমাণ অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কর্তৃক অনুমোদিত ভিসা স্পনসরশিপ।
- পূরণকৃত ট্রাভেলার ডিক্লারেশন ফর্ম, যা ফ্লাইটের সময় ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে হয়। https://imuga.immigration.gov.mv/ethd লিঙ্কের মাধ্যমে ফর্মটি অনলাইনে পূরণ করে জমা দিতে হয়।
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায়, জনপ্রিয় স্থান ও খরচ
এই শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে মালদ্বীপের অন-অ্যারাইভাল ভিসা বিনামূল্যেই বাংলাদেশিরা পেতে পারেন। এই পর্যটন ভিসার মেয়াদ ৩০ দিন।
ঢাকা থেকে মাফুশি দ্বীপ যাতায়াত
ঢাকা - মালে রাউন্ড ট্রিপ বিমান ভাড়া নির্ভর করবে কিছু বিষয়ের উপর যেমন এয়ারলাইন্স কোম্পানি, বুকিংয়ের সময়, বিভিন্ন অফার, ইত্যাদি।
মালে থেকে মাফুশি দ্বীপ পর্যন্ত যাওয়ার জন্য স্পিডবোট বা ফেরিতে যেতে হবে। স্পিডবোটের ভাড়া লাগবে ২৫ মার্কিন ডলার বা ২ হাজার ৭৫০ টাকা। এভাবে দ্বীপে পৌছতে প্রায় ৪৫-মিনিট সময় লাগবে। মালে শহরের ব্যাঙ্ক অফ সিলনের সামনে থেকে ৬ নম্বর জেটি থেকে পাওয়া যাবে এই স্পিডবোটগুলো।
আর সরকারি ফেরিগুলো শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন চলে এবং ভ্রমণপথে প্রায় দেড় ঘন্টা সময় নেয়। ফেরিতে টিকেট খরচ নিতে পারে জনপ্রতি ২ মার্কিন ডলার বা ২২০ টাকা।
আরও পড়ুন: ঈদ অবকাশ: ভিসা-মুক্ত এশিয়ায় সেরা ভ্রমণ গন্তব্য
মাফুশি দ্বীপে ঘুরতে যাওয়ার সেরা সময়
মালদ্বীপের অন্যান্য পর্যটন স্থানগুলোর মতো এখানেও সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ মাসে বেশি ভিড় থাকে। এই শুষ্ক মৌসুমে আবহাওয়া পরিষ্কার থাকে এবং সামগ্রিকভাবে কম আর্দ্রতা থাকায় ভ্রমণের পরিবেশ বেশ মনোরম হয়। আর এরপর থেকে; অর্থাৎ মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত অধিকাংশ সময় আকাশ মেঘলা থাকে।
কখনো কখনো ঝড়ে কবলে পড়তে হয় বলে এই সময়টি অনেকেই এড়িয়ে চলেন। তবে এই সময়গুলোর সবচেয়ে সেরা সুবিধা হচ্ছে- দ্বীপে ভ্রমণ খরচ অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক কম থাকে।
৭৯২ দিন আগে
ঈদ অবকাশ: ভিসা-মুক্ত এশিয়ায় সেরা ভ্রমণ গন্তব্য
ঈদের ছুটি মানেই বিরামহীন কর্মব্যস্ততা থেকে বড় সময়ের জন্য অব্যাহতি। কর্মচাঞ্চল্যে আষ্টেপৃষ্ঠে বাধা ভ্রমণপিপাসু মানুষগুলো মুখিয়ে থাকে এই মৌসুমের জন্য। ছুটির পরিসরটা পর্যাপ্ত হওয়ায় অনেকেই চিন্তা করেন দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার। কিন্তু যখন ভিসা জটিলতার ব্যাপার আসে, তখনই ছুটিকে ঘিরে যাবতীয় পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়। তাছাড়া ট্যুর শেষ করে অফিস শুরুর আগেই তাড়া থাকে দেশে ফেরার। এই দুটো শর্ত পূরণেই অনেকটা সহায়ক ভূমিকা পালন করে এশিয়ার ভিসামুক্ত দেশগুলো। হেনলি পাসপোর্ট ইন্ডেক্স অনুসারে ২০২৪ সালে এশিয়ার ৪টি দেশের ভিসা নিয়মনীতি শিথিল রয়েছে বাংলাদেশিদের জন্য। চলুন, সেই দেশগুলোর দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
এই ঈদে ভিসা ছাড়াই ঘুরে আসতে পারেন এশিয়ার যে দেশগুলোতে
ভুটান
পূর্ব হিমালয়ে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার স্থলবেষ্টিত এই দেশটির উত্তরে চীন এবং দক্ষিণে ভারত। একদিকে স্থাপত্যশিল্পের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ, অন্যদিকে রাফটিংয়ের জন্য এশিয়ার সেরা গন্তব্যগুলোর একটি এই ভুটান। দেশটির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ গাংখার পুয়েনসাম বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়া, যেটি এখন পর্যন্ত আরোহণ করা সম্ভব হয়নি। ভুটানের বিশেষত্বের মাঝে আরও রয়েছে এর বৈচিত্র্যপূর্ণ বন্যপ্রাণী, যার মধ্যে রয়েছে হিমালয় টাকিন এবং সোনালি ল্যাঙ্গুর।
ভুটানের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা
পারো
বিমান বন্দর থেকে নেমেই সোজা চলে যেতে হবে ভুটানের সর্বোচ্চ রাস্তা লা পাসে’তে। কেননা এখান থেকে দেখা মিলবে জলমহরি পর্বতের মোহনীয় দর্শন। অন্যান্য দর্শনীয় জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে টাইগারস নেস্ট, কিচু মনস্ট্রি, পারো চু, রিনপুং জং, পারো মনস্ট্রি এবং তাং সাং।
আরও পড়ুন: ১০ হাজার টাকা বাজেটে দেশের বাইরে কোথায় ঘুরতে যাবেন?
থিম্পু
সমদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৩৭৫ থেকে ৮ হাজার ৬৮৮ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত রাজধানী শহর থিম্পুর সর্পিলাকার রাস্তা উন্মাদকতা তৈরি করে পর্যটকদের মনে। রংবেরঙ্গের বাড়িগুলো যেন রঙের ফেরিওয়ালা।
শহরেই ঘোরার মাঝেই চোখে পড়ে মেমোরিয়াল চর্টেন, সিটি ভিউ পয়েন্ট, ক্লক টাওয়ার, থিম্পু জং, থিম্পু নদী, পার্লামেন্ট হাউস ও থিম্পু ডিজং।
পুনাখা
যাওয়াটা বেশ সময় সাপেক্ষ হলেও বিস্ময়কর সুন্দর দোচুলা পাস থেকে ফেরার পথে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে পুনাখার অন্যান্য সৌন্দর্য্যগুলোও। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পুনাখা জং, ফোক হেরিটেজ মিউজিয়াম, আর্ট স্কুল ও ন্যাশনাল লাইব্রেরি। রাফটিংয়ের জন্য ভুটানের খ্যাতিটি মূলত এই পুনাখার কারণেই।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ ১০ দর্শনীয় স্থান: শীতের ছুটিতে সাধ্যের মধ্যে ভ্রমণ
ভুটানের ভিসামুক্ত ভ্রমণ রীতি
ভুটানে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের কোনো ভিসার প্রয়োজন হয় না। তবে তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ বাংলাদেশ প্রস্থানের তারিখ থেকে অন্তত ৬ মাস বেশি থাকতে হয়। সেই সঙ্গে কমপক্ষে দুটি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকা আবশ্যক। ভুটানে প্রবেশের আগ মুহূর্তে কাস্টমস কর্মকর্তা এগুলোর একটিতে ভিসা স্ট্যাম্প যুক্ত করে দেন।
এ সময় এসডিএফ (সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফি) হিসেবে প্রতি দিনের জন্য ২০০ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হয়। বাংলাদেশি টাকায় এটি ২১ হাজার ৮৫২ টাকার (১ মার্কিন ডলার = ১০৯ দশমিক ২৬ বাংলাদেশি টাকা) সমান। ৪ দিনের এসডিএফ দিয়ে অতিরিক্ত আরও ৪ তথা মোট ৮ দিন থাকা যায়।
ভুটান ভ্রমণ খরচ
ভিসা ছাড়া ঢাকা থেকে ভুটান গমনের আকাশপথই একমাত্র উপায়। রাউন্ড ট্রিপের টিকিট কেটে রাখলে খরচ হবে ৬৭৩ থেকে ৮৪২ মার্কিন ডলার, যা ৭৩ হাজার ৫৩৫ থেকে ৯২ হাজার টাকার সমান। বিমানে মাত্র ১ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে ভুটানের পারোতে পৌঁছা যায়।
৫ দিনের ভ্রমণের জন্য এখানে খরচ হতে পারে জনপ্রতি কমপক্ষে ১৬ হাজার ৬৫০ থেকে থেকে ৩৭ হাজার ৮৮০ গুলট্রাম। বাংলাদেশি টাকায় যেটি ২১ হাজার ৮৫৪ থেকে ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকার (১ ভুটানি গুলট্রাম = ১ দশমিক ৩২ টাকা) সমতূল্য। এর মধ্যেই থাকা-খাওয়াসহ অভ্যন্তরীণ যাতায়াত খরচ অন্তর্ভূক্ত।
আরও পড়ুন: সাধ্যের মধ্যে মালদ্বীপের বিকল্প হতে পারে এশিয়ার যেসব ট্যুরিস্ট স্পট
মালদ্বীপ
ভারত মহাসাগরে মাঝে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জের রাষ্ট্রটি এশিয়ার সবচেয়ে ছোট দেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর স্থলভাগের উচ্চতা ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি এবং সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক বিন্দু মাত্র ৭ ফুট ১০ ইঞ্চি। যে কারণে মালদ্বীপ বিশ্বের সর্বনিম্ন দেশ হিসেবে পরিচিত।
মালদ্বীপে কোথায় ঘুরবেন
মালে
মালদ্বীপের সবচেয়ে বড় এই শহরের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে দেশের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর সঙ্গে। এখানকার আকর্ষণ প্রবাল পাথরে বানানো হুকুরু মস্ক বা ওল্ড ফ্রাইডে, ভারুনুলা রালহুগান্ধু, মালে মাছ বাজার, সুনামি স্মৃতিস্তম্ভ, মালে জাতীয় জাদুঘর এবং মুলি আজ প্যালেস। স্নোর্কেলিং ও সার্ফিংয়ের স্বর্গরাজ্য এই মালে দ্বীপ।
হুলহুমালে দ্বীপ
মালদ্বীপের বৃহত্তম এই দ্বীপটি মূলত বাজেট হোটেল বা রেস্তোঁরার জন্য বিখ্যাত। রাজধানী মালে থেকে কাছাকাছি হওয়াতে নিমেষেই চলে আসা যায় হুলহুমলে সেন্ট্রাল পার্ক, হুলহুমলে বিচ, হুকুরু মিসকি এবং এইচডিসি বিল্ডিং দেখতে।
আরও পড়ুন: দিল্লি ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ভবিনফারু দ্বীপ
এখানে ভিড়ের প্রধান কারণ হলো সৈকতের বন্যান ট্রি ভবিনফারুর ঘরগুলো। ঘুরে দেখার সময় পর্যটকগণ জেট স্কিইং, প্যারাসেইলিং এবং স্নোর্কেলিং করতে কখনই ভোলেন না।
৮৩১ দিন আগে
বাংলাদেশ-মালদ্বীপ-নেপালের উচিত পারস্পরিক পর্যটনকে উৎসাহিত করা: প্রধানমন্ত্রী
পারস্পরিক সুবিধার জন্য পর্যটনের উন্নয়নে বাংলাদেশ, নেপাল ও মালদ্বীপের মধ্যে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার (২০ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের বিদায়ী হাইকমিশনার শিরুজিমাথ সামীরের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ, নেপাল ও মালদ্বীপ পারস্পরিক স্বার্থে পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, 'তিন দেশের মধ্যে পর্যটনের বিকাশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মানে ভারতেরও প্রবৃদ্ধি: শ্রিংলা
প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, পর্যটনে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজারের বালুকাময় সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালদ্বীপে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন।‘তারা উভয় দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।’
রাষ্ট্রদূত তার মেয়াদকালে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, তার শাসনামলে মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাম্বাসাডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন ও মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।
আরও পড়ুন:কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে রাষ্ট্রদূত ইমরানের পরিচয়পত্র পেশ, পোশাক ও ওষুধ শিল্পে সহযোগিতায় দেশটির আগ্রহ প্রকাশ
৯৬২ দিন আগে
স্পিকারের সঙ্গে মালদ্বীপের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মালদ্বীপের হাইকমিশনার সিরুজিমাথ সামীর।
বুধবার সংসদ ভবনের তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে তারা দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, পর্যটন খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: ইউএনওপিএসের নির্বাহী পরিচালক রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ-মালদ্বীপ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ৫০ বছর পূর্তির দিকে এগিয়ে চলেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশের সরকার কাজ করে চলেছে।
স্পিকার বলেন, মালদ্বীপের মতো বাংলাদেশের পর্যটন খাতও অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এ ছাড়া দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পর্যটন খাতে সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সরাসরি বিমান যোগাযোগ এই দুই দেশের আন্তঃসম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ সময় তিনি মালদ্বীপের পর্যটন খাতের প্রশংসা করেন।
মালদ্বীপের হাইকমিশনার সিরুজিমাথ সামীর বলেন, মালদ্বীপে প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।
এসময় তিনি নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় স্পিকারের বলিষ্ঠ ভূমিকার প্রশংসা করেন।
এসময় মালদ্বীপ হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি মাইশান আহমেদ এবং থার্ড সেক্রেটারি নাসির মারিয়ামসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: কপ২৮: দুবাইয়ে পিটার হাসের সঙ্গে সাবের হোসেনের সাক্ষাৎ
তফসিল ঘোষণার বিষয়ে আলোচনা করতে ৫ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে সিইসি’র নেতৃত্বাধীন কমিশন
৯৬৭ দিন আগে
সাধ্যের মধ্যে মালদ্বীপের বিকল্প হতে পারে এশিয়ার যেসব ট্যুরিস্ট স্পট
শুধু নব দম্পতিদেরই নয়; পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এমনকি সলো ট্রাভেলারদেরও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পছন্দের তালিকায় শীর্ষে মালদ্বীপ। আদিম প্রবাল প্রাচীরের সঙ্গে সখ্যতা গড়তে কাঁচ রঙের পানিকে দৃষ্টি সীমানায় বন্দি করাটাই যথেষ্ট নয়। পরম মমতায় ডুব দিয়ে জলজ অধিবাসীদের সঙ্গে চড়ুই ভাতিতে না মজলে, পুরো আনন্দটাই বাকি থেকে যাবে এই দ্বীপদেশ ভ্রমণের।
গোটা এশিয়া জুড়ে গাল্ফ বা উপসাগরীয় শহরগুলোর দেখা মিললেও মালে বা হুলহুমালের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সত্যি দুষ্কর। কিন্তু এই দুষ্প্রাপ্যতার ছোঁয়া পেতে পকেটটাও যারপরনাই ভারি হওয়া জরুরি। আর একটু খরচ বাঁচিয়ে যারা মালদ্বীপের বিকল্প খুঁজছেন আজকের নিবন্ধটি তাদের জন্য। চলুন, এশিয়ার অন্য কিছু উপকূলবর্তী ট্যুরিস্ট স্পটে মালদ্বীপকে খুঁজে দেখা যাক।
স্বল্প খরচে এশিয়ার যে দর্শনীয় স্থানগুলোতে পাবেন মালদ্বীপ ভ্রমণের স্বাদ
ফি ফি দ্বীপপুঞ্জ, থাইল্যান্ড
আন্দামান সাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটি শ্বেত-শুভ্র পাথর ও বালির এক মনোমুগ্ধকর সংমিশ্রণ। ছয়টি স্বতন্ত্র দ্বীপের মধ্যে ফি ফি ডন মাঙ্কি সৈকত ও মায়া বে-এর জন্য ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।
এখানকার কাছাকাছি বিমানবন্দরটি হল ফিৎসানুলক। আকাশপথে বাংলাদেশ থেকে এখানে আসার ভাড়া শুরু হয় জনপ্রতি ২৩০ মার্কিন ডলার বা ২৫ হাজার ২৬৪ দশমিক ৬৫ টাকা (১ মার্কিন ডলার = ১০৯ দশমিক ৮৫ বাংলাদেশি টাকা) থেকে।
খাবারের জন্য প্রতিদিন আনুমানিক ৪১৭ থাই বাত বা ১ হাজার ২৮৯ দশমিক ৪৫ টাকা (১ থাই বাত = ৩ দশমিক ০৯ বাংলাদেশি টাকা) খরচ হয়। স্থানীয় পরিবহন খরচ দৈনিক ২৫৩ থাই বাত বা ৭৮২ দশমিক ৩৩ টাকা।
কোহ ফি ফিতে দম্পতিদের জন্য হোটেল খরচ গড়পড়তায় ২ হাজার ৯৫৬ থাই বাত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ হাজার ১৪০ দশমিক ৫৮ টাকার সমান।
থাইল্যান্ডের ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য ন্যূনতম ৬ মাস মেয়াদী ও কমপক্ষে ২টি খালি পৃষ্ঠা সম্বলিত পাসপোর্ট দিয়ে আবেদন করতে হবে।
আরও পড়ুন: বিশ্বের সেরা ১০ মনোমুগ্ধকর জলপ্রপাত
কোহ লিপে, থাইল্যান্ড
আন্দামান সাগরে বুকে আরও একটি নৈসর্গিক সৌন্দর্য কোহ লিপে, যেটি রোমাঞ্চপ্রেমিদের হাতছানি দিয়ে ডাকে এর পাহাড়গুলো আরোহনের জন্য। দ্বীপের অভিজাত খোলা-জায়গার রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলো প্রতিদিন-ই দ্বীপকে লোকারণ্য করে রাখে।
৯৭৪ দিন আগে
দ্বীপপুঞ্জ থেকে ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে সরাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মালদ্বীপের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু
দ্বীপপুঞ্জে নিযুক্ত ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের অপসারণের বিষয়ে নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের অটল থাকবেন এবং প্রক্রিয়া শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে নির্বাচনী বিজয় উদযাপনে জড়ো হওয়া তার সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।
মুইজ্জু বলেন, তিনি তার নাগরিকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মালদ্বীপে থাকা বিদেশি সামরিক বাহিনীর পক্ষে দাঁড়াবেন না।
তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাদের বলেছে যে তারা এখানে বিদেশি সেনার উপস্থিতি চায় না।’
আরও পড়ুন: দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পর কারাগারের পরিবর্তে গৃহবন্দী হলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন
ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভারতের জন্য এটি একটি গুরুতর আঘাত। যেখানে শনিবার মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচনকে ভার্চুয়াল গণভোট হিসাবে দেখা হয়েছিল এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে দ্বীপপুঞ্জে কোনটি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে তাও নির্ধারণের বিষয় ভাবা হয়েছিল।
বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। দেশের অভ্যন্তরে ভারতকে একটি অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতির অনুমতি দিয়েছেন মোহাম্মদ মুইজ্জুর এমন অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন তিনি। মুইজ্জুর দল পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেসকে অধিকহারে চীনপন্থী হিসেবে মনে করা হয়।
মালদ্বীপের একটি দ্বীপে সার্বভৌমত্বের প্রতি ভারতীয় সামরিক বাহিনীর কথিত হুমকি ছিল মুইজ্জুর প্রচারণায় প্রধান বিষয়বস্তু , যা দলটির পক্ষ থেকে বছরের পর বছর ধরে ‘ভারত তাড়ানোর’ কৌশলের অংশ।
অপরদিকে সোলিহ জোর দিয়েছিলেন যে মালদ্বীপে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি শুধুমাত্র দুই সরকারের মধ্যে একটি চুক্তির অধীনে একটি ডকইয়ার্ড তৈরি করার জন্য এবং তার দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা নয়।
আরও পড়ুন: মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী বিরোধী দলীয় প্রার্থী মোহামেদ মুইজ্জু: স্থানীয় গণমাধ্যম
পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতা সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাঁর প্রেসিডেন্টের মেয়াদকালে মালদ্বীপকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনেশিয়েটিভের একটি অংশ করে তোলেন। এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপ জুড়ে বাণিজ্য এবং চীনের প্রভাব সম্প্রসারণের জন্য রেলপথ, বন্দর এবং মহাসড়ক নির্মাণের উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইয়ামিনকে রবিবার কারাগার থেকে গৃহবন্দীতে স্থানান্তরিত করা হয়েচে। যা আগামী ১৭ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ইতোমধ্যেই মুইজ্জের প্রচারাভিযানের একটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে।
মালদ্বীপ ভারত মহাসাগরে এক হাজার ২০০টি প্রবাল দ্বীপ নিয়ে গঠিত, যা পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে প্রধান শিপিং রুটে অবস্থিত।
আরও পড়ুন: মালদ্বীপের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
১০১০ দিন আগে