ঢাকা
ফরিদপুরে বাসচাপায় ঝরল বাবা-ছেলের প্রাণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রাকের চাকা মেরামতের সময় অজ্ঞাত একটি বাসের চাপায় ট্রাকটির চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন। নিহত দুইজন সম্পর্কে বাবা-ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের বগাইল টোল প্লাজার সামনে বগাইল ও বামনকান্দা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর তাদের মরদেহ সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
নিহতরা হলেন— যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী (৫০) ও তার ছেলে ইয়াকুব আলী (২৬)। ইয়াকুব ট্রাকটির চালক ছিলেন এবং তার বাবা ইউসুফ আলী সহকারী হিসেবে সঙ্গে কাজ করতেন।
এ ব্যাপারে শিবচর হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে ভাঙ্গাগামী একটি মালবাহী ট্রাক ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বগাইল টোলপ্লাজা এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটির পেছনের একটি চাকা বিকল হয়ে যায়। পরে সড়কের ওপর একপাশে ট্রাকটি থামিয়ে চালক ইয়াকুব ও তার বাবা ইউসুফ আলী মিলে চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় ভাঙ্গাগামী দ্রুতগতির একটি বাস পেছন থেকে এসে তাদের দুজনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতদের ট্রাকটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘাতক বাস ও চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতদের মধ্যে ছেলে ট্রাকের চালক এবং বাবা সহকারী ছিলেন। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
১৯ দিন আগে
শরীয়তপুরে পদ্মায় ভেসে আসা পলিব্যাগে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির হাত-পা
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদী থেকে পলিথিনের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির খণ্ডিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয়রা কেদারপুর ইউনিয়নের ওয়াপদা-সংলগ্ন পদ্মা নদীর পাড়ে জোয়ারে ভেসে আসা একটি ব্লকের সঙ্গে আটকে থাকা সাদা রঙের পলিথিনের ব্যাগ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে নড়িয়া থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পলিব্যাগটি খুলে দেখতে পায়, সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তির দুটি হাত কনুই পর্যন্ত এবং দুটি পা হাঁটু পর্যন্ত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অঙ্গগুলো অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।
সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল জলিল জানান, স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিব্যাগের ভেতর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির খণ্ডিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য সিআইডি ফরিদপুর টিমকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২০ দিন আগে
রাজবাড়ীতে মাটিতে পুতে রাখা মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় একটি পুকুরপাড়ে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উজ্জ্বল শেখ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে খবর পেয়ে উপজেলার সীমান্তবর্তী উজানচর ইউনিয়নের কালিতলা এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন— গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চর দৌলতদিয়া পরশউল্লাহ মাতুব্বরপাড়ার আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা আক্তার (৩২) ও তাদের ৪ বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া আক্তার।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে উজ্জ্বল শেখকে গোয়ালন্দ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
নিহতের স্বামী আমজাদ শেখ জানান, গত ৪ মে চর দৌলতদিয়া হাট এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে কুলখানি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী ও মেয়ে নিখোঁজ ছিলেন। হত্যার ঘটনায় স্থানীয় উজ্জ্বল নামের এক ভাটা শ্রমিককে সন্দেহ করছেন তিনি। এর আগে তার স্ত্রীর সঙ্গে উজ্জ্বলের পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে সালিশও হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলার শেষ সীমানা উজানচর ইউনিয়নের জ্যোতিন বোদ্যিরপাড়ার কালিতলা গ্রামের স্থানীয় হাকিম উল্লাহর পুকুরপাড় থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। এ সময় মাঠে কাজ করা কয়েকজন কৃষক দুর্গন্ধ পেয়ে গ্রামের লোকজনকে খবর দেন। স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে দেখতে পান, পুকুরপাড়ের মাটিতে পুতে রাখা মানুষের পা বাইরে বের হয়ে আছে। সেখানে কয়েকটি কুকুর ঘোরাফেরা করছে।
স্থানীয় লোকজন বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের সহায়তায় মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানা পুলিশকেও খবর দিয়ে আনা হয়।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. খবির হোসেন জানান, উজানচর ইউনিয়নের কালিতলা গ্রামের পায়ে চলার রাস্তার এক পাশে গোয়ালন্দ উপজেলার শেষ সীমানা। এর বিপরীত পাশে ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের আনছারডাঙ্গী গ্রাম। পুকুরটি আনছারডাঙ্গী গ্রামের হাকিম উল্লাহর।
তিনি বলেন, ‘পুকুরের পাশে মাঠে কাজ করার সময় কৃষকরা দুর্গন্ধ পেয়ে গ্রামের লোকজনকে খবর দেয়। গ্রামের লোকজন এর উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখেন, মানুষের পা দেখা যাচ্ছে। এরপর পুলিশকে খবর দিলে তাদের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।’
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সীমান্তবর্তী হওয়ায় দুই জেলার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং জমি মাপার আমিনদের এনে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। ঘটনাস্থলটি ফরিদপুর জেলার মধ্যে হওয়ায় সন্ধ্যায় মরদেহ দুটি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া তারাই সম্পন্ন করবে।
২০ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ৩
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে জমা গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ সাত বছরের শিশু মুন্নাও মারা গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া শিশুটি রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিল।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলে জানান হাসপাতালের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে একই হাসপাতালে মৃত্যু হয় মুন্নার বোন কথার।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাত বছর বয়সী এ শিশুটিরও শ্বাসনালীসহ শরীরের ৫২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাদের বাবা মো. কালাম (৩৫) মারা যান গত সোমবার সকালে। তার শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল।
বর্তমানে এই ঘটনায় দগ্ধ কালামের স্ত্রী সায়মা (৩২) এবং বড় মেয়ে মুন্নি (১০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সায়মার শরীরের ৬০ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গত ১০ মে সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিন শিশু সন্তানসহ এক দম্পতি দগ্ধ হন।
ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, ওই কক্ষের তিতাস গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস জমা হয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।
২১ দিন আগে
গাজীপুরে ৫ খুন: আসামি ফোরকানের আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত নয় পুলিশ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন কিনা—সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। তবে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে জিএমপির পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফোরকান মোল্লা।
গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ফোরকান প্রায় ছয় মাস আগে স্ত্রী শারমিন ও তিন সন্তানকে নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠেন। তিনি পেশায় প্রাইভেটকারচালক ছিলেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, পারিবারিক অশান্তির বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। গত ৮ মে রাতে চাকরির কথা বলে শ্যালক রসূল মোল্লাকেও গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসেন ফোরকান। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতন করার কিছু মিশিয়ে স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে অচেতন করা হয়। এরপর ধারালো চাপাতি দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।
ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, নিহত শারমিনের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই ফোরকান মোল্লা পলাতক ছিলেন।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের অবস্থান মেহেরপুর এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া যায়। এক ট্রাক সহকারী পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি এলাকা থেকে একটি মোবাইল কুড়িয়ে পান। ওই সূত্র ধরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ।
ফুটেজে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি একটি সাদা প্রাইভেটকার থেকে নেমে রেলিংয়ের পাশে কিছু রেখে কিছুক্ষণ পর নদীতে ঝাঁপ দেন। ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা কি না, কিংবা তিনি মারা গেছেন কি না—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিষয়টি যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন।
২১ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে: প্রতিমন্ত্রী
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনা শুনে আহতের চিকিৎসার খবর নিতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ছুটে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম।
বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা ঘাট জেরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
দগ্ধরা হলেন— নাজমুল শেখ (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩০), রামিজুল (৪৫), আমির (২৫), শঙ্কর (২৫), কাউসার (৩০), তুহিন শেখ (৩০), মনির হোসেন (৪৫), আল আমিন (৪০), ওসমান গনি (৩০), সুপ্রভাত ঘোষ (৪২) ও বদরুল হায়দার (৫০)।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তারা আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেন এবং সেখানে উপস্থিত আহতদের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণ এবং চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় উপজেলার মেঘনাঘাটে অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুপুরে ক্যান্টিনে খাবার খাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ ক্যান্টিনের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে উপস্থিত প্রায় ১২ জনের হাত, মুখ ও পা পুড়ে যায়। পরে সহকর্মীরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, বুধবার দুপুরে ১২ জন দগ্ধ রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের দগ্ধের মাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দগ্ধ হওয়া তিনজনকে আইসিইউ এবং এইচডিইউতে রাখা হয়েছে।
২১ দিন আগে
গাজীপুরে দুই দশক আগে কুপিয়ে হত্যা: প্রধান আসামির যাবজ্জীবন
গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই দশক আগের এক হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রধান আসামি আব্দুস সাত্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক অমিত কুমার দে এ রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলায় আরও দুই আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত। আসামি আহাদকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর আসামি আবুলকে এক বছরের কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে।
মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২৮ আসামির মধ্যে তিনজন মারা যাওয়ায় বাকি আসামিদের বিচার কার্যক্রম চলে। তিনজনকে দণ্ডিত করা হলেও অন্য সবাইকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা হাইকোর্টের জামিনে ছিলেন।
মামলার বাদী কামরুল হাসান জানান, ২০০৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর শ্রীপুর উপজেলার উজিলাব গ্রামে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মানিক মন্ডলকে। এ ঘটনায় বাদীসহ আরও পাঁচজন আহত হন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) মিজানুর রহমান জানান, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, বাদীপক্ষ চাইলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
২১ দিন আগে
কোরবানির বাজারে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
নারায়ণগঞ্জে আলোচনার কেন্দবিন্দুতে পরিণত হয়েছে খামারে গোলাপি রঙের একটি মহিষ। নারায়নগঞ্জবাসীর আকর্ষণে পরিণত হয়েছে এই মহিষটি। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এলবিনো জাতের মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে সরেজমিনে গিয়ে নানা জাতের গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ কোরবানির পশুর পাশাপাশি দেখা মেলে ব্যতিক্রমী এই গোলাপি মহিষের।
সাড়ে তিন বছর বয়সী এলবিনো জাতের মহিষটির মাথার চুল তুলনামূলক বড়। খামারিরা তার নাম দিয়েছেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। মহিষটির চলাফেরাতেও আছে রাজকীয় ভাব।
খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছর কোরবানির ঈদের এক মাস পর রাজশাহী সিটি পশুর হাট থেকে মহিষটি কেনা হয়। এর পর থেকে খামারে বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হচ্ছে। মহিষটি ইতোমধ্যে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকায় ঢাকার এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়েছে। ঈদুল আজহার আগে ক্রেতা মহিষটি নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, মহিষটির মাথার সামনের চুল অনেকটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায় আমরা ওর নাম রেখেছি ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, স্বভাবও তেমন শান্ত। এটি এলবিনো জাতের মহিষ। এ জাতের মহিষ সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে। উত্যক্ত না করলে সহজে আক্রমণাত্মক আচরণ করে না।
ব্যতিক্রমী নাম ও গোলাপি রঙের কারণে প্রতিদিনই খামারটিতে মহিষটি দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।
শহরের পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই দেখতে আসছে। আমরাও দেখতে এসেছি।’
আরেক দর্শনার্থী সুলতানা আক্তার বলেন, মহিষটি দেখতে খুবই সুন্দর। চুলগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের মতো।
খামারের পরিচর্যাকারী কাউসার মিয়া বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পর বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। প্রতিদিন দুই বেলা সময় মেনে তাকে খাবার দেওয়া হয়। খাদ্যতালিকায় আছে ভুট্টা, সয়াবিন, খইল, গমের ভুষি, তিলের খইল, ধানের কুঁড়া, খড় ও সবুজ ঘাস। এছাড়া স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত পরিচর্যাও করা হচ্ছে।
রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্ম সূত্রে জানা গেছে, এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তাদের খামারে প্রায় ২০০টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে সবার আগ্রহের কেন্দ্র এখন গোলাপি মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। প্রতিদিন অসংখ্য কৌতূহলী মানুষ মহিষটিকে শুধু একনজর দেখতে ভিড় করছেন খামারে। ব্যতিক্রমী মহিষটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৩ হাজার। ৬ হাজার ৫৩৫টি খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত আছে ১ লাখ ১৩ হাজার। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে নিয়ে আলোচনার কথাও তিনিও শুনেছেন বলে জানান।
২২ দিন আগে
শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত শুরু সকাল ৯টায়
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আসন্ন ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত উপলক্ষে প্রস্তুত্তিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আয়োজক কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ সভায় সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
২২ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস বিস্ফোরণ, দগ্ধ ১২
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনাঘাট এলাকায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ১২ জন দগ্ধ হয়েছেন।
বুধবার (১৩ মে) দুপুর পৌনে ২টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন—রামিজুল (১৫), মনির হোসেন (৪৫), বদরুল হুদা (৯), তুহিন শেখ (৩০), সুপ্রভাত ঘোষ (৪২), ওসমান গনি (৩০), আল আমিন (৩০), নাজমুল শেখ (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩০), শংকর (২৫), কাওসার (৩০) ও আমির (২৫)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট এলাকা থেকে দগ্ধ অবস্থায় ১২ জনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তাদের ড্রেসিং চলছে। এখনও পর্যন্ত তাদের শরীরে দগ্ধের পরিমাণ জানা যায়নি।
২২ দিন আগে