প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। দেশের মানুষের চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা কমাতে চিকিৎসকদের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, এটি কোনো আইন বা প্রতিষ্ঠান দিয়ে সম্ভব নয়; চিকিৎসকদের মানবিক আচরণ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবার মাধ্যমেই তা অর্জন করতে হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এখান থেকে শুধু সেরা চিকিৎসকই নয়, এমন মহৎ মানুষ তৈরি হয়েছেন, যারা অন্যের জীবন রক্ষায় নিজেদের স্বার্থ বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে, বিশেষ করে রাজধানীর মানুষের কাছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সার্বক্ষণিক একটা নির্ভরতার প্রতীক। একজন চিকিৎসকের স্টেথোস্কোপের এক প্রান্তে যেমন তার কানে থাকে, ঠিক অন্য প্রান্তে তখন স্পন্দিত হয় একটা মানুষের জীবন। চিকিৎসক ও রোগীকে ঘিরে আবর্তিত হয় একটা পরিবারের অগাধ বিশ্বাস।
তারেক রহমান বলেন, এমন একজন মানুষ হিসেবে আমরা আপনাদের চিন্তা করি, যার কাছে আমরা ভরসা পাই; ভরসা পাই একজন পরম বন্ধু হিসেবে। বিপদে পড়লেই কিন্তু মানুষ আপনাদের কাছে যায়। একজন মানুষ বিপদে পড়ে যখন আরেকজন মানুষের কাছে যায়, তখন কিন্তু সে সেই মানুষটাকে তার ভরসার আশ্রয়স্থল মনে করে বলেই তার কাছে যায়। চিকিৎসকগণই রোগ-শোকে কাতর মানুষের পরম বন্ধু হয়ে ওঠেন এবং এই কথাটি আমি আমার জীবনেও উপলব্ধি করেছি।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার মায়ের জীবনের শেষ সময়ে দেশের চিকিৎসকেরা যে আন্তরিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে সেবা দিয়েছেন, তা পৃথিবীর কোনো উন্নত হাসপাতালেও অর্থ দিয়ে পাওয়া সম্ভব নয়।