রাজধানী ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করে ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নগরবাসীর যাতায়াত আরও সহজ করতে আগ্রহী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব বিবেচনা করে নৌপথে তাদের ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিশেষ সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকার চারপাশের নৌপথ চালু-সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করার পাশাপাশি নদীর দূষণ প্রতিরোধ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীর নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নদীতীরের পরিবেশ উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি নদীর চারপাশে নির্মিত ওয়াকওয়ের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর নির্দেশনাও দেন, যাতে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি নদীতীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।
সভা শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে ঢাকার চক্রাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, আশুলিয়া থেকে সদরঘাট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত নদীপথের একটি অংশ যাত্রীবান্ধব হলেও অন্য অংশে এখনও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সড়কপথে যেখানে মানুষ দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সেখানে নদীপথে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগলে যাত্রীদের আগ্রহ কমে যায়। ফলে যাত্রী সংকট তৈরি হয়।
তিনি বলেন, এর আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ওয়াটার বাস পরিচালনা করলেও যাত্রী স্বল্পতা, নদী দূষণ এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত ১০ বছরে সংস্থাটির প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়। ফলে সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়।
শেখ রবিউল আলম বলেন, এবার কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওয়াটার বাস পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের লক্ষ্য শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও বিনোদনের সম্ভাবনাও কাজে লাগানো।
হাতিরঝিলের ওয়াটার বাসের সঙ্গে এ প্রকল্পের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, হাতিরঝিলে অল্প দূরত্বে যাত্রীর চাপ বেশি এবং চলাচলেও তেমন কোনো বাধা নেই। কিন্তু দীর্ঘ রুটে যখন সড়কপথে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়, তখন নদীপথে যাত্রী আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।