প্রতারণার মামলায় দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠিয়েছিলেন বিচারিক আদালত।
আদালতে বিদিশার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান খান ও অ্যাডভোকেট মাসুদ মিয়া। পরে এ বিষয়ে আইনজীবী মাসুদ মিয়া বলেন, বিদিশার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই।
গত ২৬ আগস্ট প্রতারণার মামলায় বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা ছিল।
গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। সে সময় কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিদিশার বিরুদ্ধে সাজার পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
ঢাকার পল্লবী এলাকার ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, মোশাররফ ২০০১ সালের ১০ জুলাই বারিধারায় একটি ফ্ল্যাটের জন্য বিদিশাকে ৭৫ লাখ টাকা দেন। ফ্ল্যাটটি ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাটটি হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দিলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত (ডিসঅনার) হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া অভিযোগকারী জানান, টাকা ফেরত দেওয়া বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর—কোনোটিই না করে বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি বিলম্বিত করেন। পরে তিনি তাকে হত্যার হুমকিও দেন।