হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় কাপড়ের রোল হিসেবে আনা একটি চালান থেকে এক হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এনবিআর জানায়, থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে আমদানি করা চালানটি হংকং থেকে আসে। কাপড়ের রোলের ভেতরে ও সেগুলোর সঙ্গে লুকানো অবস্থায় মোবাইল ফোনগুলো পাওয়া যায়। জব্দ করা মোবাইল ফোনের মধ্যে রয়েছে ৪৫০টি রেডমি ১৪সি, ১৫০টি রেডমি ১৫সি এবং এক হাজার ৫৫টি পুরোনো আইফোন ও বিভিন্ন চীনা ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন।
ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে চালানে থাকা প্রকৃত পণ্যের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখতে পান কাস্টমস কর্মকর্তারা। কার্গো রেকর্ডে পণ্যের ধরন ‘নিট ফেব্রিকস’ উল্লেখ থাকলেও অন্য একটি নোটে ‘পি কভার জি রোল সিআরটি’ লেখা ছিল। পরে পরিদর্শনের সময় ঘোষিত কাপড়ের চালানের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
এয়ার কার্গো সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, চালানটির মাস্টার এয়ারওয়ে বিল নম্বর ৮২৮-৫৬৭৮-২৪১২ ও হাউস এয়ারওয়ে বিল নম্বর জেজিএল৫৭২০৩। পণ্যগ্রহীতা হিসেবে থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেডের নাম ও পণ্যের ধরন হিসেবে ‘নিট ফেব্রিকস’ উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া চালানটির ওজন ছিল ৮৯৫ কেজি এবং এতে ছিল ২০টি প্যাকেজ। গত ৩১ আগস্ট আরএইচ-৬৬৫১ ফ্লাইটে করে চালানটি ঢাকায় আসে।
হাউস এয়ারওয়ে বিলে ঝেজিয়াং শাওজিং সিনহুয়া নিটিং কোম্পানিকে পণ্য প্রেরক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর মাস্টার এয়ারওয়ে বিলে জ্যাংকো গ্লোবাল লজিস্টিক লিমিটেডের নাম উল্লেখ রয়েছে। পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল এফ এফ কার্গো সার্ভিস।
কাস্টমস কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, প্রযোজ্য শুল্ক ও কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে পণ্যের ভুল ঘোষণা ও গোপন করার ঘটনা ঘটতে পারে।
জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোর সঠিক মডেল ও আইএমইআই নম্বর নির্ধারণের পাশাপাশি সেগুলো নতুন নাকি ব্যবহৃত, তা যাচাই করবে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য এবং প্রযোজ্য শুল্ক ও করের পরিমাণও নির্ধারণ করা হবে। বিস্তারিত তালিকা ও মূল্যায়ন শেষ হওয়ার পর এ জব্দের চূড়ান্ত আর্থিক প্রভাব স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।