রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি এ ঘটনায় হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গতকাল (রবিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাতে তারা শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সাংবাদিকরা দেশীয় অস্ত্রের ছবি তুলতে থাকেন। ছবি ও সংবাদ সংগ্রহের কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল ও পড়াশোনা শেষ করা ব্যক্তিদের সনদ বাতিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন—এমন অভিযুক্তদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবিও জানানো হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজকের (সোমবার) মধ্যে মামলা দায়েরের আশ্বাস দেওয়া হলে সাংবাদিকরা কর্মসূচি থেকে ফিরে যান।
হামলায় আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।
এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই কাজে ক্যাম্পাস শাখা ছাত্রদল ও হল প্রাধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান জড়িত বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ার কথা। কিন্তু পরে ওই ফুটেজ আর পাওয়া যায়নি। হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করতেই ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শহিদ জিয়াউর রহমান হল প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সংস্কারকাজ চলমান থাকায় তখন সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সে জন্য কোনো ফুটেজ নেই। ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।’
অন্যদিকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. আবদুল আলীম বলেন, ‘তথ্যগুলো সংরক্ষিত আছে। অভিযোগ যে কেউ করতে পারে। ডকুমেন্টসের কোনো অভাব নেই। তদন্ত কমিটি যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করার সেখান থেকে করছে।’
অবশ্য সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ বা হল প্রাধ্যক্ষের দাবি অনুযায়ী সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।