চট্টগ্রামের রাউজানের পাহাড়তলীতে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে হত্যার ঘটনায় অন্যতম হোতা মো. আইয়ুবকে (৪৫) রাঙামাটি থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
শনিবার (২০ জুন) ভোরে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকার শাহ আলমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আইয়ুব রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কদলপুর সমশের পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব জানান, একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রামে নিয়ে গেছে র্যারের টিম ।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৭-এর মিডিয়া সেল জানায়, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
স্থানীয়রা জানান, গত ১৩ জুন দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাসুদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর রাউজান-রাঙ্গুনিয়ার জনসাধারণ বিক্ষোভে নামেন। এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সরাসরি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরপর থেকে সন্ত্রাসীরা গাঁ ঢাকা দেয়।
তথ্য প্রযুক্তি ও সোর্সের মাধ্যমে র্যাব জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হোতা আইয়ুব রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে তার নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রবিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন র্যাব সদস্যরা।
মাসুদুল হক চৌধুরীকে হত্যার ঘটনায় ঘটনায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। গত ১৫ জুন রাত ১২টার দিকে নিহতের বড় ভাই মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে রাউজান থানায় এ মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহত মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পিয়ারুল ইসলাম চৌধুরী স্বপনের ছোট ভাই এবং বেতাগী এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে।