ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় নিখোঁজের ২৫ দিন পর এক যুবকের কঙ্কাল, প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের পরিত্যক্ত গারোর ভিটা এলাকা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাশেদুল ইসলাম (২০) ফুলপুর উপজেলার কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের শাহজাহানের ছেলে। খবর পেয়ে শাহজাহান ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালের সঙ্গে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পোশাক দেখে মরদেহটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন জসিম উদ্দিন (২৪), রফিক (২৮) ও মোজাম্মেল হোসেন (২৭)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা রাশেদুলকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও রাশেদুলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে মুঠোফোনে রাশেদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন জসিম উদ্দিন। তার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে রাশেদুলের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবার কাছে কল করা হয়। এ সময় এক নারীর কণ্ঠে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুই ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে কয়েক দফা ফোন ও খুদেবার্তা পাঠানো হয়। ওই দিনই ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শাহজাহান।
অন্যদিকে ঘটনার পরই এলাকা ছেড়ে চলে যান জসিম। পরে ২৫ আগস্ট ফুলপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা করে নিহতের পরিবার। এতে জসিমকে প্রধান করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলার তদন্তের একপর্যায়ে গতকাল (রবিবার) দুপুরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে জসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই গ্রামের রফিক ও মোজাম্মেলকে তাদের নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জসিমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন হাড়, মাথার খুলি এবং প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করে পুলিশ।
শাহজাহান জানান, মাস খানেক আগে রাশেদুল, রফিক ও মোজাম্মেল একসঙ্গে শসার ক্ষেতে কাজ করেছিলেন। কাজের পারিশ্রমিক থেকে রফিক ৫০০ টাকা পেলেও রাশেদুলকে ১০০ টাকা দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, বাকি টাকা দিয়ে রফিক ইয়াবা কিনে সেবন করেন। পরে রাশেদুল পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ বিরোধের জেরে তিনজন মিলে রাশেদুলের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফুলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিকরুল ইসলাম বলেন, আসামিরা একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা হাড়ের অংশগুলো ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আজ (সোমবার) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে। আর গ্রেপ্তার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।