হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৪১ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া এই সময়ে নতুন করে আরও ১৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৪৭ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭ মাস ও ৮ মাস বয়সী দুই ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি জানান, গত ২০ মে নেত্রকোনার পূর্বধলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ১৭ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ মে রাতে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
অন্যদিকে, ১৬ মে নেত্রকোনার কলমাকান্দা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৮ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে করা ভর্তি হয়। তাকেও যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। ২৬ মে রাতে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় তারও মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১ হাজার ৬২৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৩৫ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ৪১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।