মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে মিছিল, স্লোগানসহ ফুল দেওয়ার ঘটনায় সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামীপন্থি ২৭ জন আইনজীবীর নামে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জন আসামি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মণীষ কান্তি দে (মিন্টু) ও অ্যাডভোকেট এম জিয়াউর রহমান শামীম। মণীষ কান্তি দে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি)। জিয়াউর রহমান শামীম জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য।
মামলার এজহার থেকে জানা গেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের করা মামলার বাদী সুনামগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনুরুল হক। এজহারে আসামি হিসেবে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই আইনজীবী এবং বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবসের সকালে শহরের স্মৃতিসৌধে মিছিল, স্লোগানসহ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে ফুল দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতা-কর্মীরা। তারা মিছিল নিয়ে জেলা কালেক্টরেট এলাকায় স্মৃতিফলকে যান। সেখানে স্লোগান দিয়ে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। মিছিলে ২৩ থেকে ৩০ জন আইনজীবী ছিলেন। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের পদধারী কয়েকজন নেতাও ছিলেন।
এ সময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘স্বাধীনতার এই দিনে, মুজিব তোমায় মনে পড়ে’, ‘শেখ শেখ শেখ মুজিব, লও লও লও সালাম’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে ওই স্লোগানের ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ওসি রতন শেখ বলেন, যারা স্মৃতিফলকে মিছিল করেছেন ও স্লোগান দিয়েছেন, মামলায় তাদের সবাইকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, এই সংগঠনের কার্যক্রম আইনত নিষিদ্ধ। তারা মিছিল করেছেন, স্লোগান দিয়েছেন; মিছিলের ছবি, ভিডিও নিজেদের ফেসবুকে প্রচারও করেছেন। এটি তারা করতে পারেন না।