খেলাধুলা
ক্রিকেট অবকাঠামোতে বিনিয়োগের অভাব, বিসিবির সমালোচনায় তামিম
চলমান ভারত-বাংলাদেশ সিরিজে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় নিয়মিত দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে। এই সময়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নে অবকাঠামোগত ঘাটতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
ভারতীয় ক্রীড়া পত্রিকা স্পোর্টস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তামিম নানা বিষয়ে নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। নিজের অবসর, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা, সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তার সম্পর্ক, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের চলমান সংকট এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের অগ্রগতি বাধাগ্রাস্ত করছে এমন বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেন।
দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তামিম কোনো বাংলাদেশি কোচের জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ হাজারের বেশি রান এবং ২৫টি সেঞ্চুরির অধিকারী এই সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘ঢাকায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব বাংলাদেশ ক্রিকেটের ধীর উন্নয়নের একটি বড় কারণ।’
‘২০০৬-২০০৭ সালে আমার অভিষেক হয় এবং ২০২৪ সালে এসে গত ১৭ বছরে ঢাকায় একটিও নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হয়নি।’
আরও পড়ুন: টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলে দিলেন মাহমুদউল্লাহ
বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে মনোযোগ দেওয়া উচিত, এ প্রসঙ্গে এ কথা বলেন তামিম।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কিছু দিক ঠিক আছে, তবে বেশিরভাগেরই পরিবর্তন প্রয়োজন।’
এ সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আর্থিক ব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
বিসিবির আর্থিক ক্ষমতা দেখানোর জন্য পূর্ববর্তী বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান প্রায়ই ব্যাংকে শত শত কোটি টাকা থাকার কথা বলে গর্ব করতেন। তবে তামিম মনে করেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করার বদলে বোর্ডের উচিত অবকাঠামোগত উন্নয়নে তা বিনিয়োগ করা।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, যখন বিসিবি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা থাকার দাবি করে, তখন এটা মুখে চড় মারার মতো মনে হয়। এই টাকা অলস পড়ে থাকা উচিত নয়। অ্যাকাউন্টে ২০০ কোটি টাকা থাকলেই চলবে, বাকি এক হাজার কোটি টাকা অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগ করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত উন্নতির জন্য তাদের আয় পুনর্বিনিয়োগ করে যা বিসিবি করে না।’
আরও পড়ুন: মিরপুরেই শেষ টেস্ট খেলবেন সাকিব, ইঙ্গিত বিসিবি প্রধানের
ঢাকায় মিরপুরের মতো আরেকটি সুযোগ-সুবিধার অভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। পাশাপাশি সারা দেশে ভালো মানের উইকেটের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘মিরপুরের মতো সুবিধা-সম্বলিত আরও স্টেডিয়াম অবশ্যই প্রয়োজন। নির্দিষ্ট কিছু উইকেটে নিজেদের শক্তির দিকে মনোযোগ দিয়ে খেলা ঠিক আছে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটেও মানসম্মত উইকেট তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।’
‘এভাবে আপনি আপনার ক্রিকেটারদের পরীক্ষা করে তাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করতে পারেন।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে তামিম বলেন, ‘প্রত্যাবর্তন বিবেচনা করার জন্য একটি সুস্পষ্ট পথ ও উদ্দেশ্য থাকতে হবে।
তবে স্পষ্টভাবে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি তিনি; আবার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে নাকচও করেননি।
সাকিবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে তামিম কিছুটা অস্পষ্ট কথা বলেছেন এবং তাদের সম্পর্কের অবনতির কারণও স্পষ্ট করে বলেননি তিনি।
এ ছাড়াও, তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ার মতো কেউ নেই।
তিনি প্রস্তাব দেন যে বোর্ডের উচিত জাতীয় দলের জন্য কোচিং স্টাফ ৩০:৭০ অনুপাতে নিয়োগ করা, যেখানে ৩০ শতাংশ বিদেশি কোচ উচ্চ পদে থাকবেন এবং বাকি ৭০ শতাংশ স্থানীয় কোচ থাকবেন। এতে স্থানীয়রা ভবিষ্যতে আরও ভালো করার সুযোগ পাবেন বলে মনে করেন এই সাবেক ক্রিকেটার।
৫১৩ দিন আগে
খেলোয়াড়দের ‘নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ’ চেলসি ও ফরেস্টকে এফএর তলব
ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় চেলসি ও নটিংহ্যাম ফরেস্টকে অভিযুক্ত করেছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। পাশাপাশি ব্লুসদের এক খেলোয়াড়কে নিষেধাজ্ঞাসহ ক্লাবটিকে ৫০ হাজার পাউন্ড জরিমানার কবলে পড়তে হয়েছে।
ঘটনাটি রবিবারের। প্রিমিয়ার লিগের সপ্তম রাউন্ডের ম্যাচে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফরেস্টকে আতিথ্য দেয় চেলসি। ১-১ গোলে ম্যাচটি যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছে, তখনই ঘটে বিপত্তি।
ম্যাচের ৮২তম মিনিটে চেলসির ডাগআউটের সামনে সাইডলাইন থেকে উইংব্যাক মার্ক কুকুরেইয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন নটিংহ্যামের ফুলব্যাক নেকো উইলিয়ামস। কুকুরেইয়াকে তিনি এত জোরে ধাক্কা দেন যে ডাগআউটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা চেলসি কোচ এনসো মারেসকার ওপর গিয়ে পড়েন তিনি। এতে মারেসকাও মাটিতে পড়ে যান।
এরপর উইলিয়ামসের দিকে তেড়ে যান চেলসির খেলোয়াড়রা, অন্যদিক থেকে এগিয়ে আসেন ফরেস্টের খেলোয়াড়রা। ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেঞ্চে থাকা চেলসির খেলোয়াড়রাও মারামারিতে যোগ দেন।
একপর্যায়ে চেলসি ফরোয়ার্ড নিকোলাস জ্যাকসন ফরেস্টের ব্রাজিলীয় সেন্টার ব্যাক মোরাতোর মুখে জোরে ধাক্কা দিয়ে তাকে ফেলে দেন।
বেশ কিছুক্ষণ ধরে এমন বিবাদ চলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন রেফারি। এরপর কুকুরেইয়া, লেভি চিলওয়েল এবং ফরেস্টের নেকো উইলিয়ামসকে হলুদ কার্ড দেখান তিনি।
আরও পড়ুন: সিটি-আর্সেনালের সঙ্গে লড়াই-ই করতে পারবে না চেলসি: মারেসকা
এ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে ইংল্যান্ডের ফুটবল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটির ভিডিও পর্যালোচনা করে দুই ক্লাবকে ‘নিজেদের খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে’ বলে অভিযুক্ত করেছে এফএ। এ বিষয়ে কারণ দর্শাতে আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে ক্লাব দুটিকে।
এছাড়া, কুকুরেইয়াকে আন্তর্জাতিক বিরতির পর প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই ম্যাচে খেলতে পারবেন না চেলসির আরও এক খেলোয়াড়। পাঁচ ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখে এই শাস্তি পেয়েছেন ক্লাবটির ফরাসি ডিফেন্ডার ওয়েসলি ফোফানা।
ম্যাচটিতে দুই দলের মোট ১১ জনকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এর মধ্যে চেলসির ছয়জন কার্ড পাওয়ায় প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুসারে ৫০ হাজার পাউন্ড জরিমানা গুনতে হচ্ছে ক্লাবটিকে।
প্রিমিয়ার লিগের কোনো ম্যাচে এক দলের ছয়জন বা তার বেশি খেলোয়াড় হলুদ কার্ড পেলে ক্লাবটিকে ৫০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
আরও পড়ুন: বর্ণবাদী মন্তব্য করে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ ইতালিয়ান ফুটবলার
তবে এতকিছুর মধ্যেও শাস্তি থেকে রেহাই পেয়েছেন চেলসি আরেক খেলোয়াড় নিকোলাস জ্যাকসন। রিভিউতে তার আচরণ ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হয়নি।
ম্যাচশেষে সেদিন অবশ্য সাংবাদিকদের কাছে নিজের শিষ্যদের পক্ষে সাফাই গান মারেসকা।
তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু পরিস্থিতি আমাদের অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ; এটি তেমনই একটি ঘটনা। তবে ওরা একজোট হয়ে যেভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করল, (চলতি মৌসুমে) যেভাবে একট্টা হয়ে খেলছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট।’
৫১৪ দিন আগে
বিদায়বেলায় ইনিয়েস্তার প্রশংসায় রিয়াল মাদ্রিদ
৪০ বছর বয়সে দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনেছেন বার্সেলোনার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নিজের বিখ্যাত আট নম্বর জার্সির সঙ্গে মিলিয়ে মঙ্গলবার অর্থাৎ, অক্টোবরের ৮ তারিখে খেলোয়াড়ি জীবন ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এদিন শ’ পাঁচেক অতিথির সামনে সংবাদ সম্মেলন করে বুটজোড়া তুলে রাখার ঘোষণা দেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার।
কান্নাভেজা চোখে এ সময় ইনিয়েস্তা বলেন, ‘এই দিনটির কথা আমি কখনোই ভাবিনি, কখোনো নয়। চোখে যে পানি ঝরছে, তা ছিল আনন্দের, গর্বের।’
আরও পড়ুন: ‘বন্ধু’ ইনিয়েস্তাকে মেসির বিদায়বার্তা
লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোদের যুগে ফুটবলে আবির্ভুত হয়ে গাদা গাদা গোল না করেও ফুটবল বিশ্বের বিরল সম্মান ও সমীহ অর্জন করেন ইনিয়েস্তা।
নিজের ব্যক্তিত্ব দিয়ে ক্যারিয়ারে এমন সম্মান অর্জন করেছেন ইনিয়েস্তা, বিতর্ক-বিদ্বেষ ছাপিয়ে যা তাকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। কাতালান ক্লাব বার্সেলোনায় খেললেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের সম্মান কুড়িয়েছেন তিনি।
অবসরকালে এক বিবৃতিতে ইনিয়েস্তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদও।
ক্লাবটি লিখেছে, ‘বিদায়বেলায় স্পেন ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তি ইনিয়েস্তার প্রতি স্বীকৃতি, প্রশংসা ও স্নেহ প্রকাশ করতে চায় রিয়াল মাদ্রিদ, ক্লাবের সভাপতি ও পরিচালনা পর্ষদ।’
‘ক্যারিয়ারে অসংখ্য শিরোপা জয়ের পাশাপাশি নিজের খেলা ও মূল্যবোধ দিয়ে ফুটবলের মাহাত্ম্য প্রকাশে অবদান রেখেছেন ইনিয়েস্তা।’
আরও পড়ুন: এবার ‘লিটল ম্যাজিশিয়ান’ ইনিয়েস্তার বিদায়
এর আগেও বারবার ইনিয়েস্তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন রিয়ালের খেলোয়াড়রা।
ইনিয়েস্তাকে নিয়ে করা প্রশ্নে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক অধিনায়ক ও ক্লাবটির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার সের্হিও রামোস বলেছেন, ‘ইনিয়েস্তাকে নিয়ে কোনো হিংসা চলে না। ও আমাদের দেশের জন্য প্রথম বিশ্বকাপ নিয়ে এসেছে। এখানে (মাদ্রিদে) আমরা সবাই ওকে ভালোবাসি, সম্মানের চোখে দেখি।’
বার্সেলোনা ক্যারিয়ারের শেষ সময়ে প্রতিপক্ষের মাঠ থেকেও একের পর এক ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ পেয়েছেন তিনি। ইতিহাসের খুব কম ফুটবলারই দলমত-প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বিশেষে ফুটবলভক্তদের অপার শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে উঠতে পেরেছেন। আর তা-ই করে দেখিয়েছেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা।
৫১৪ দিন আগে
‘বন্ধু’ ইনিয়েস্তাকে মেসির বিদায়বার্তা
কিশোর বয়স থেকে লা মাসিয়ায় একসঙ্গে বেড়ে উঠে বার্সেলোনার জার্সিতে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মাঠে আলো ছড়িয়েছেন লিওনেল মেসি ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। ‘লিটল ম্যাজিশিয়ানের’ বিদায়বেলায় তাই সাবেক সতীর্থ ও বন্ধু ইনিয়েস্তাকে নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে ভুললেন না ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মেসি।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নিজের বিখ্যাত আট নম্বর জার্সির সঙ্গে মিলিয়ে মঙ্গলবার অর্থাৎ, অক্টোবরের ৮ তারিখে ফুটবলের খেলোয়াড়ি জীবন ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা।
মঙ্গলবার শ’ পাঁচেক অতিথির সামনে সংবাদ সম্মেলন করে বুটজোড়া তুলে রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
কান্নাভেজা চোখে এ সময় ইনিয়েস্তা বলেন, ‘এই দিনটির কথা আমি কখনোই ভাবিনি, কখোনো নয়। চোখে যে পানি ঝরেছে, তা ছিল আনন্দের, গর্বের।’
‘ফুটবল ক্যারিয়ারে যেসব সতীর্থকে পাশে পেয়েছি, তাদের জন্য আমি গর্বিত।’
কোনো এক সময়ে বার্সেলোনার কোনো দায়িত্বে তিনি ফিরতে চান বলেও জানান এ সময়।
‘আমি মনে করি, যাদের মাঠে প্রচুর অভিজ্ঞতা হয়েছে, যারা দলকে প্রভাবিত করতে পারে, তাদের ক্লাবের (বার্সেলোনা) সঙ্গে থাকা উচিৎ, ক্লাবের জন্য কিছু করা উচিৎ।’
আরও পড়ুন: এবার ‘লিটল ম্যাজিশিয়ান’ ইনিয়েস্তার বিদায়
কাতালুনিয়ায় ইনিয়েস্তা যখন সাবেক সতীর্থ, কোচ ও বর্তমান খেলোয়াড়দের মাঝ থেকে বিদায় নিচ্ছেন, সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে আসন্ন বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন লিওনেল মেসি।
তবে ব্যস্ততার মাঝেও ইনিয়েস্তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে ভোলেননি তিনি। ইনস্টাগ্রামে ইনিয়েস্তার সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে মেসি লেখেন, ‘সতীর্থদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জাদু যার (পায়ে) ছিল; যার সঙ্গে ফুটবল আমি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছি।’
‘আন্দ্রেস, বল তোমাকে মিস করবে, যেমনটি মিস করব আমরা। আমার শুভকামনা সবসময় তোমার সঙ্গে থাকবে।’
লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোদের যুগে ফুটবলে আবির্ভুত হয়ে গাদা গাদা গোল না করেও ফুটবল বিশ্বের বিরল সম্মান ও সমীহ অর্জন করেন ইনিয়েস্তা।
মাত্র ১২ বছর বয়সে বার্সেলোনার লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর ২০০২ সালের ২৯ অক্টোবর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ক্লাব ব্রুজের বিপক্ষে ১৮ বছর বয়সে ব্লাউগ্রানাদের জার্সিতে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় ইনিয়েস্তার। এরপর কাতালান জায়ান্টদের জার্সিতে বছরের পর বছর ধরে আলো ছড়িয়ে কিংবদন্তি হিসেবে বিদায় নেন তিনি।
লিওনেল মেসি ও শাভি এরনান্দেসের সঙ্গে বিখ্যাত ত্রয়ী গড়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে ইউরোপীয় ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করেন ৪০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। এই সময়ে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, সাতটি লা লিগাসহ আরও অনেক শিরোপা ঘরে তোলে তারা।
৫১৪ দিন আগে
বর্ণবাদী মন্তব্য করে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ ইতালিয়ান ফুটবলার
দক্ষিণ কোরিয়ার এক ফুটবলারকে বর্ণবাদী মন্তব্য করে শাস্তি পেয়েছেন চলতি মৌসুমে প্রথমবার সেরি-আয় উঠে আসা ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর ডিফেন্ডার মার্কো কুর্তো। ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে ২৫ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়কে।
ঘটনাটি গত জুলাই মাসের। ইংলিশ ক্লাব উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচে এই কাণ্ড করে বসেন কুর্তো। স্পেনের মারবেইয়া শহরে ওই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে উলভস ফরোয়ার্ড হোয়াং হি-চ্যানকে কিছু একটা বলেন তিনি। এরপর কোমোর ফুটবলারদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন উলভসের খেলোয়াড়রা। এমনকি, কোমোর এক খেলোয়াড়কে ঘুষি মেরে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় উলভারহ্যাম্পটনের উইঙ্গার দানিয়েল পোদেন্সকে।
ওই ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কুর্তোকে এই শাস্তি দিয়েছে ফিফা। তবে শাস্তির অর্ধেকটা এখন থেকেই তার ওপর কার্যকর হলেও বাকি অংশ দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: উয়েফাকে ‘মাফিয়া’ বলল ডর্টমুন্ড সমর্থকরা
অবশ্য সে সময় কোমোর দাবি ছিল, অপমানজনক কোনো কিছুই কুর্তো বলেননি, উলভারহ্যাম্পটনের খেলোয়াড়রাই ‘তিলকে তাল’ বানিয়েছেন। হোয়াংকে তিনি স্রেফ ‘জাকি চ্যান’ বলেছিলেন। কারণ তিনি শুনেছিলেন, উলভসের খেলোয়াড়রা তাকে ‘চ্যানি’ (জ্যাকি চ্যানের ডাকনাম) নামেই ডাকেন।
তবে তদন্তে কুর্তোর দোষ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়ে ফিফার এক মুখপাত্র বলেন, ‘দশ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তাকে সামাজিক সেবামূলক কাজ, ফিফা অনুমোদিত কোনো সংস্থায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ফিফার এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছে উলভারহ্যাম্পটন। ক্লাবটির ক্রীড়া পরিচালক ম্যাট ওয়াইল্ড এ বিষয়ে বলেছেন, ‘এই শাস্তি বর্ণবাদ ও যে কোনো ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে ফুটবলারদের একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়।’
উল্লেখ্য, কোমো থেকে চলতি মৌসুমে ইতালির দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব চেজেনায় ধারে খেলছেন কুর্তো।
আরও পড়ুন: ‘আপত্তিকর’ আচরণের শাস্তি পেলেন মার্তিনেস
৫১৪ দিন আগে
টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলে দিলেন মাহমুদউল্লাহ
দীর্ঘ ১৭ বছরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে মঙ্গলবার এই ফরম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ডানহাতি এই অলরাউন্ডার।
এর আগে, এই সিরিজের আগেই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন সাকিব আল হাসান। মাহমুদউল্লাহ ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটি খেললেও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেন সাকিব।
মঙ্গলবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘আমি মনে করি, এটাই আমার জন্য সঠিক সময়। অধিনায়ক ও কোচ বিষয়টি আগেই জানতেন। আমার বিশ্বাস, আমাদের পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি শুরু করা উচিত।’
বর্তমানে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। ৯ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় ম্যাচের আগে মাহমুদউল্লাহ জানান, ১২ অক্টোবর হায়দ্রাবাদে সিরিজের শেষ ম্যাচটি হবে তারও ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি।
আরও পড়ুন: মিরপুরেই শেষ টেস্ট খেলবেন সাকিব, ইঙ্গিত বিসিবি প্রধানের
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ে সফরকালে টেস্ট ত্রিকেট থেকে অবসর নেন মাহমুদউল্লাহ। তার তিন বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আরেকটি ফরম্যাটকেও বিদায় জানালেন তিনি। যদিও ওয়ানডেতে তিনি বাংলাদেশের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
২০০৭ সালে নাইরোবিতে কেনিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় মাহমুদউল্লাহর। এরপর থেকে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে তিনি ছিলেন এক নিয়মিত মুখ।
ডানহাতি এই ব্যাটার ও নির্ভরযোগ্য অফ স্পিনার ১৩৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ২ হাজার ৩৯৫ রান এবং ৪০টি উইকেট শিকার করেছেন। এর মধ্যে আটটি আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩৭ ম্যাচে মাহমুদুল্লাহর সংগ্রহ ৪৫৮ রান ও ৯ উইকেট।
আরও পড়ুন: টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের বিকল্প কে?
ইনিংসের শেষ দিকে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য ‘ফিনিশার’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও গত কয়েক বছর ধরে তার ফর্ম ছিল অনুজ্জ্বল।
টি-টোয়েন্টিতে আটটি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে মাহমুদউল্লাহর। ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার ম্যাচজয়ী ছক্কা বাংলাদেশকে ফাইনালে তোলে। ওই ম্যাচটিই তার স্মরণীয় ইনিংসগুলোর মধ্যে অন্যতম।
৫১৪ দিন আগে
মিরপুরেই শেষ টেস্ট খেলবেন সাকিব, ইঙ্গিত বিসিবি প্রধানের
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে শেষ টেস্ট ম্যাচে খেলতে পারেন সাকিব আল হাসান- এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদ।
কানপুরে ভারতের বিপক্ষে শেষ টেস্টের আগে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন সাকিব। একইসঙ্গে ঢাকায় নিজের শেষ ম্যাচ খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। তবে সাকিবের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়, যার ফলে তার প্রত্যাবর্তন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
সেসময় বিসিবি সভাপতি জানিয়েছিলেন, বোর্ড সাকিবের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দিতে পারবে না। এ ধরনের যেকোনো ব্যবস্থা সরকারকেই নিতে হবে।
আরও পড়ুন: রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশকে হারাল ভারত
সাকিবের প্রত্যাবর্তন নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, অন্য খেলোয়াড়দের মতো সাকিবও একই ধরনের নিরাপত্তা পাবেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনগণের মধ্যে ক্ষোভ থাকলে, জোরদার নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা উল্লেখ করেন।
তবে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে আরব আমিরাত সফরকালে ক্রীড়া উপদেষ্টা বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাকিবের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে তার দেশের মাটিতে অবসর নেওয়ার ইচ্ছার প্রতি সমর্থন জানালে সাকিবের প্রত্যাবর্তনের আশা জোরালো হয়।
সোমবার ফারুক আহমেদ জানান, তিনি সাকিবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং সাকিবের শেষ টেস্টে দেশের দর্শকদের সামনে খেলার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
বিসিবি সহকর্মীদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, ‘শেষ টেস্ট খেলতে সাকিবের দেশে ফেরার সম্ভাবনা প্রবল। বোর্ড সভাপতি হিসেবে আমার ক্ষমতা এখানে সীমিত। সাকিবের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে সরকারের ওপর নির্ভর করে, যার মধ্যে উপদেষ্টারা আছেন এবং প্রধান উপদেষ্টা আছেন, তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।’
বিসিবি সভাপতি আশ্বস্ত করেন যে বোর্ড স্টেডিয়াম এলাকার মধ্যে সাকিবের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে, তবে স্টেডিয়ামের বাইরে এই নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট করে দেন।
অবসর ঘোষণার সময় সাকিব বাংলাদেশে থাকাকালীন এবং দেশত্যাগের সময় নিরাপত্তার আশ্বাস চেয়েছিলেন। দেশ ছাড়ার সময় তিনি বাধার সম্মুখীন হতে পারেন বলে তার আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছিল।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় তার নাম জড়িত থাকার কারণেই এই আশঙ্কা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। তৎকালীন সরকারের অধীনে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের ক্ষেত্র না থাকার অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচন বর্জন করেছিল।
আরও পড়ুন: ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১২৭ রানে গুটিয়ে গেল টাইগাররা
৫১৪ দিন আগে
রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশকে হারাল ভারত
টি-টোয়েন্টিতে ১২৮ রানের লক্ষ্য যে একেবারেই মামুলি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পাশাপাশি বাংলাদেশি বোলাররা কোনো প্রতিরোধ গড়তে না পারলে সহজ জয়ে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছে ভারত।
গোয়ালিয়রে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে রবিবার বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ভারত।
শুরুতে ব্যাট করে ইনিংসের এক বল বাকি থাকতেই ১২৭ রান করে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। ১২৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮.১ ওভার বা ৪৯ বল হাতে রেখেই তা টপকে গিয়েছে ভারত।
টি-টোয়েন্টিতে এটি ভারতের সর্বোচ্চ সংখ্যক বল হাতে রেখে জয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১০০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৪১ বল হাতে রেখে ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটিই ছিল তাদের সর্বোচ্চ বল হাতে রেখে জয়ের ঘটনা।
আরও পড়ুন: ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১২৭ রানে গুটিয়ে গেল টাইগাররা
১২৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চড়াও হন ভারতীয় ব্যাটাররা। মাঝে তিনটি উইকেট পড়লেও ভারতের রানের ফোয়ারা কোনোভাবেই বন্ধ করতে পারেনি তাসকিন-মোস্তাফিজরা।
দলের হয়ে ১৬ বলে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন হার্দিক পান্ডিয়া। এছাড়া সূর্যকুমার যাদব ১৪ বলে ২৯ এবং ১৯ বলে ২৯ রান করেন ওপেনার সঞ্জু স্যামসন।
এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
৫১৬ দিন আগে
লেভানডোভস্কির হ্যাটট্রিকে দারুণ জয় বার্সেলোনার
হান্সি ফ্লিকের তত্ত্বাবধায়নে উড়তে থাকা বার্সোনার প্রতাপ দেখল এবার আলাভেস। রবের্ট লেভানডোভস্কির হ্যাটট্রিকে ক্লাবটিকে উড়ে দিয়েছে বার্সা।
লা লিগায় রবিবার আলাভেসকে তাদের মাঠেই ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। দলের হয়ে প্রথম ৩২ মিনিটের মধ্যে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন লেভানডোভস্কি।
এর ফলে চলতি মৌসুমে লিগে ৯ ম্যাচে ১০ গোল ও ২ অ্যাসিস্টসহ মোট ১২ গোলে অবদান রাখলেন তিনি। এছাড়া পিচিচির দৌড়ে নিজেকে আরও উপরে তুললেন ৩৬ বছর বয়সী এই পোলিশ স্ট্রাইকার।
দুই অর্ধে অবশ্য দুটি গোল পেয়েছিল আলাভেস, তবে অফসাইডের কারণে দুবারই হতাশ হতে হয় তাদের। অবশ্য বার্সেলোনার একটি গোলও অফসাউডে কাটা পড়ে।
এদিন বল দখলের লড়াইয়ে পরিষ্কার এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। ৭২ শতাংশ সময় নিজেদের দখলে বল রেখে মোট ১৫টি শট নেয় তারা যার ৯টিই ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, প্রথমার্ধে একবারও লক্ষ্যে রাখতে না পারা আলাভেসের ১১টি শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র দুটি।
আরও পড়ুন: বার্সেলোনাকে খুশি করে সমতায় শেষ মাদ্রিদ ডার্বি
প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে উঠতে থাকে বার্সেলোনা। এরই ধারাবাহিকতায় রাফিনিয়ার গোলে চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায় কাতালানরা। তবে মাঝমাঠ থেকে লং পাস ধরে রাফিনিয়াকে বাড়ানোর আগে অফসাইডে ছিলেন লামিন ইয়ামাল। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
তবে এর দুই মিনিট পর পায়ের পেশিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বার্সা উইঙ্গার ফেররান তোরসকে। তার বদলি হিসেবে এরিক গার্সিয়াকে মাঠে নামান হান্সি ফ্লিক।
এরপর সপ্তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় বার্সা। ডান পাশে প্রতিপক্ষের বক্সের অনেকটা বাইরে ফ্রি কিক আদায় করেন লামিন, তা থেকে গোলমুখে দারুণ একটি ক্রস দেন রাফিনিয়া। এরপর লাফিয়ে উঠে চমৎকার হেডারে ঠিকানা খুঁজে নেন রবের্ট লেভানডোভস্কি।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান লেভানডোভস্কি। বাঁ পাশ দিয়ে বক্সে ঢুকেই পেনাল্টি স্পটের সামনে থ্রু বল বাড়ান রাফিনিয়া, এরপর এগিয়ে গিয়ে গোলরক্ষককে বোকা বানান লেভানডোভস্কি।
দুই মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়াতে পারতেন রাফিনিয়া। তবে বাঁ পাশ থেকে কাছের পোস্টে তিনি নিচু শট নিলে গোলরক্ষক তা ঠেকিয়ে দেন।
৩২তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন লেভানডোভস্কি। লেভাকে বক্সে ঢুকতে দেখে রক্ষণচেরা অসাধারণ একটি পাস দেন এরিক গার্সিয়া, তা ধরে কিছুটা ডান দিকে সরে গিয়ে পড়ে যাওয়ার মুখে দূরের পোস্টের দিকে আচমকা বল ঠেলে দেন লেভানডোভস্কি। গোলরক্ষক বিষয়টি একেবারেই আঁচ করতে না পেরে কাছের পোস্টের দিকে এগিয়ে এসেছিলেন। ফলে শটে গতি না থাকলেও বলের গড়িয়ে গড়িয়ে জালে জড়িয়ে যাওয়া দেখতে হয় তাকে।
এর ফলে প্রথম গোল করার ২৫ মিনিটের মধ্যে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ৩৬ বছর বয়সী এই পোলিশ।
৩৯তম মিনিটে ড্রিবল করে এগিয়ে গিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নেন পেদ্রি, তবে সহজেই তা লুফে নেন আলাভেস গোলরক্ষক আন্তনিও সিভেরা।
দুই মিনিট পর চতুর্থ গোল পেতে পারতেন লেভানডোভস্কি, তবে সতীর্থের বাড়ানো পাসে গতি বেশি থাকায় এগিয়ে এসে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন সিভেরা।
প্রথমার্ধের এক মিনিট বাকি থাকতে আক্রমণে ওঠে আলাভেস। এরপর দুই কর্নারের পর ৪৫তম মিনিটে একটি গোল পেয়ে যায় স্বাগতিকরা, কিন্তু অফসাইডে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে হতাশ হয়ে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আলাভেস।
৫১৬ দিন আগে
ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১২৭ রানে গুটিয়ে গেল টাইগাররা
তুলনামূলক অনভিজ্ঞ দল নিয়ে মাঠে নেমেও বাংলাদেশি ব্যাটারদের নাকানি-চুবানি খাইয়েছে ভারতের বোলাররা। ফলে অল্প রানেই টাইগারদের বেঁধে রাখতে সক্ষম হয়েছে তারা।
গোয়ালিয়রে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নেমে ভারতকে ১২৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে টাইগাররা।
এদিন টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শুরুতে ব্যাট করে এক বল বাকি থাকতেই ১২৭ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
দলের হয়ে অপরাজিত সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ২৭। এছাড়া বাকি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ১২।
আরও পড়ুন: ভারতের বিপক্ষে টাইগারদের ‘তুরুপের তাস’ হবে কে?
এদিন ব্যাট হাতে বলতে গেলে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারই বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি।
ইনিংসের প্রথম ওভারে আর্শদীপ সিংয়ের চতুর্থ বলে চার মেরে রানের খাতা খুলেই পরের বলে কভার অঞ্চলে রিংকু সিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস।
দলীয় তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনকে বোল্ড করে ফেরান আর্শদীপ।
এরপর তৌহিদ হৃদয়কে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন অধিনায়ক শান্ত। তবে ১২ রান করে বরুণ চক্রবর্তীর শিকারে পরিণত হয়ে ফিরে যান হৃদয়ও। পাঁচ নম্বরে মাহমুদুল্লাহ ক্রিজে আসার পর টাইগার সমর্থকরা লম্বা ইনিংসের আশা করলেও মাত্র ১ রান করে অভিষিক্ত মায়াঙ্ক যাদবের বলে আউট হন তিনি। ফলে ৪৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: ভারত সিরিজ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির শুরু চান শান্ত
এরপর দলীয় ৫৭ রানের মাথায় জাকের আলী আউট হলে মিরাজের সঙ্গে কিছুক্ষণ খেলে ৭৫ রানের মাথায় ফিরতে হয় শান্তকেও। অবশ্য ফেরার আগে তখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৭ রানের ইনিংস খেলে যান তিনি।
উইকেটের একপাশ আগলে রাখা মিরাজকে ১১ ও ১২ রান করে তুলে কিছুক্ষণ সঙ্গ দিয়ে ফেরেন যথাক্রমে রিশাদ ও তাসকিন। এরপর শরীফুল শূন্য ও মোস্তাফিজ এক রান করে আউট হলে ১২৭ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। অন্যপ্রান্তে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন মিরাজ।
ভারতের হয়ে এদিন ছয়জন বোলিং করেছেন। তার মধ্যে নীতিশ রেড্ডি ছাড়া সবাই উইকেটের দেখা পেয়েছেন। সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন আর্শদীপ ও বরুণ।
৫১৬ দিন আগে