খেলাধুলা
রদ্রিগোর গোলে অবশেষে জয়ে ফিরল ব্রাজিল
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে টানা চার ম্যাট জয়বঞ্চিত থাকার পর অবশেষে জয়ে ফিরেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। দেশটির রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড রদ্রিগোর একমাত্র গোলে জিতেছে তারা।
বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে একুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল।
ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে একুয়েডরের চেয়ে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। গোলের উদ্দেশে নেওয়া ১৩টি শটের তিনটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা, অপরদিকে একুয়েডরের আটটি শটের দুটি লক্ষ্যে থাকলেও গোল করতে ব্যর্থ হয় তারা।
বিশ্বকাপের লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বের ৭ ম্যাচ খেলে তৃতীয় এই জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চার নম্বরে উঠে এসেছে ব্রাজিল। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে নেমে গেছে একুয়ডের।
আরও পড়ুন: চিলির বিপক্ষে দারুণ জয় পেল মেসি-দি মারিয়াহীন আর্জেন্টিনা
এছাড়া সপ্তম রাউন্ডের খেলা শেষে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিলের উপরে রয়েছে কলম্বিয়া। দিনের অপর ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে ড্র করেছে তারা।
১৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উরুগুয়ে। লুইস সুয়ারেসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে এদিন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে দলটি। আর ৭ ম্যাচে ৬ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায় রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
বেশ কিছুদিন ধরেই ব্রাজিল ফুটবলের খারাপ সময় চলছে। এই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চার ম্যাচ জিততে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। এছাড়া কোপা আমেরিকার সবশেষ আসরে চার ম্যাচে তাদের জয় ছিল কেবল একটিতে। হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে এবারের আসরের কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয় ৯ বারের কোপা চ্যাম্পিয়নদের।
আরও পড়ুন: চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা সুয়ারেসের
৫৪৫ দিন আগে
জিম আফ্রো টি-টেনে জায়গা নিশ্চিত করলেন রিশাদ
বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন হারারে বোল্টসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে জিম আফ্রো টি-টেনে জায়গা নিশ্চিত করেছেন।
গত সপ্তাহে, বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) জন্য হোবার্ট হারিকেন্সও রিশাদকে দলে নিয়েছিল। সাকিব আল হাসানের পরে তিনি দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসাবে বিবিএল দলে যোগ দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: ইংলিশ ক্রিকেটের তিন সংস্করণেরই দায়িত্বে ম্যাককালাম
গত বছর জিম আফ্রো টি-টেনেও অংশ নিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম ও তাসকিন আহমেদ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা বোলার ছিলেন রিশাদ।
অভিষেক বিশ্বকাপে ১৪ উইকেট নিয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ক্রিকেট কিংবদন্তিদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই লেগস্পিনার।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি থেকে ছিটকে গেলেন বাটলার
৫৪৫ দিন আগে
চিলির বিপক্ষে দারুণ জয় পেল মেসি-দি মারিয়াহীন আর্জেন্টিনা
লিওনেল মেসি ও আনহেল দি মারিয়াবিহীন দল নিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু করেছে কোপা আমেরিকা ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে নতুন এ অধ্যায়ের শুরুটা দারুণভাবে করেছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে চিলিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে লাতিন আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচজুড়ে আধিপত্য ধরে রাখলেও প্রথমার্ধ পর্যন্ত স্বাগতিকদের আটকে রাখতে সক্ষম হয় চিলি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
৪৮তম মিনিটে ডান দিক থেকে হুলিয়ান আলভারেসের আড়াআড়ি ক্রসে মার্তিনেস ডামি দিলে বল চলে যায় সরাসরি আলেক্সিস মাক আলিস্তেরের পায়ে। এরপর নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন ২৫ বছর বয়সী এই লিভারপুল মিডফিল্ডার।
আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় ভক্তদের সতর্ক করল আর্জেন্টিনা
এরপর দীর্ঘক্ষণের প্রচেষ্টার ফল আসে ম্যাচের একেবারে শেষের দিকে। ৮৪তম মিনিটে এনসো ফের্নান্দেসের পাস ধরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলভারেস। ম্যানচেস্টার সিটির এই ফরোয়ার্ডের জোরালো শট ঠেকানোর চেষ্টা করেন চিলির গোলরক্ষক গাব্রিয়েল আরিয়াস। তবে তার গ্লাভস ফাঁকি দিয়ে বল ঠিকানা খুঁজে নেয়।
এরপর চিলির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ম্যাচের দশ মিনিট বাকি থাকতে বদলি নামা পাওলো দিবালা। অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে আলেহান্দ্রো গারনাচোর পাস ধরে দুরূহ কোণ থেকে শট নেন মেসির অনুপস্থিতিতে তার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামা দিবালা, তবে অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকারের নৈপুণ্যে শটটি ঠিকই লক্ষ্যে পৌঁছায়।
ফলে ৩-০ ব্যবধানে জিতে লাতিন আমেরিকা বাছাইপর্বের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল আর্জেন্টিনা। এ নিয়ে ৭ ম্যাচে ছয়টি জয়ে তাদের পয়েন্ট হলো ১৮। ৬ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উরুগুয়ে।
আগামীকাল ভোর সাড়ে ৫টায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে উরুগুয়ে। এদিন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবেন উরুগুয়ের তারকা ফুটবলার লুইস সুয়ারেস।
এছাড়া বাছাইপর্বের অপর দুই ম্যাচ খেলতে সকাল ৭টায় ব্রাজিল একুয়েডরের বিপক্ষে এবং পেরুর বিপক্ষে নামবে কলম্বিয়া।
আরও পড়ুন: চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা সুয়ারেসের
৫৪৬ দিন আগে
হাজার গোলের মাইলফলক ছুঁতে চান রোনালদো
নুনো মেন্দেসের বাড়ানো বক্সের বেশ বাইরে থেকে আসা ক্রস পায়ের পাতার টোকায় জালে জড়িয়ে দিলেন। এরপরই কর্নার ফ্লাগের দিকে ছুটে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে দুই হাতে মুখ চেপে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে যে কীর্তি তিনি গড়েছেন, তাতে ওই অশ্রু মোটেও দুঃখের নয়, তা আবেগের আনন্দাশ্রু।
লিসবনে বৃহস্পতিবার রাতে ‘এ’ লিগের গ্রুপ-১ এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে উয়েফা নেশন্স লিগে শুভসূচনা করেছে পর্তুগাল। দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ক্যারিয়ারের ৯০০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন রোনালদো। বিশেষ ওই মুহুর্ত গড়েই তাই নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি পর্তুগিজ মহাতারকা।
পেশাদার ফুটবলে রোনালদোর প্রথম গোলটি করার সময় যে শিশুটির জন্ম হয়েছিল, আজ ২১ বছরের যুবক সে। অথচ রোনালদোর ক্যারিয়ারের যৌবন ফুরানোর কোনো লক্ষণ নেই।
এই তো সেদিনকার কথা, ২০০২ সালের ৭ অক্টোবর ১৭ বছর আট মাস ৩ দিন বয়সে স্পোর্তিং লিসবনের জার্সিতে মোরেইরেন্সের বিপক্ষে জোড়া গোল করে এক কিশোর। সেদিন ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়তে পারেনি সেই ছেলেটি। অথচ কে জানত, ওই গোল দুটিই দীর্ঘ এক সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারের শুরু; ওই গোলের মধ্য দিয়েই ফুটবল বিশ্বের সব মনোযোগ আস্তে আস্তে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেবে সে?
অথচ সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে আরও এগিয়ে চলেছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। ৩৯ বছর বয়সে ৯০০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে তিনি বললেন পর্দার পেছনের কথা-
‘৯০০ গোল, সবাই বিষয়টি দেখবে এভাবে যে, রোনালদো আরও একটি মাইলফলক ছুঁয়েছে। কিন্তু আমি জানি এখানে পৌঁছাতে দিনের পর দিন কতটা পরিশ্রম করতে হয়েছে আমার। এটি আমার ক্যারিয়ারের অনন্য এক প্রাপ্তি।’
‘শ্রমেই সাফল্য’ নীতিতে বিশ্বাসী এই মহাতারকার কণ্ঠে আবারও ঝরল সেই বাণী-
‘আমি রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করি না, রেকর্ডই আমার পেছনে ছোটে।’
৫৪৭ দিন আগে
পর্তুগালের জয়ের রাতে ইতিহাস গড়লেন রোনালদো
ইউরোর ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে নেশন্স লিগ দিয়ে নতুন শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলন পর্তুগিজ কোচ রবের্ত মার্তিনেস। তার আহ্বানে সাড়া দিয়েই নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল পর্তুগাল।
রাজধানী লিসবনে বৃহস্পতিবার রাতে ‘এ’ লিগের গ্রুপ-১ এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে উয়েফা নেশন্স লিগে শুভসূচনা করেছে পর্তুগাল।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে দিয়োগো দালোর গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর ৩৪তম মিনিটে পর্তুগালের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। বিরতির আগে দালোর আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান কমায় ক্রোয়েশিয়া। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল না হওয়ায় ওই ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রবের্ত মার্তিনেসের শিষ্যরা।
ম্যাচের ৩৪তম মিনিটের ওই গোলে অনন্য এক ইতিহাস গড়েছেন রোনালদো। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৯০০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা।
গত ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচটি ম্যাচ খেলে একটিও গোল না পাওয়ায় সমালোচকদের তোপের মুখে পড়তে হয় রোনালদোকে। অনেকে তার অবসর নেওয়ার সময় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। তবে ৯০০ ক্যারিয়ার গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে সমালোচকদের মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: অবসরের বিষয়ে আগে কাউকে কিছু জানাবেন না রোনালদো
গোলটি করে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। মাঠের মধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে সতীর্থরা এসে তাকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি অভিনন্দন জানান।
৫৪৭ দিন আগে
সার্বিয়ার ‘রক্ষণ দুর্গ’ ভাঙতে ব্যর্থ চ্যাম্পিয়নরা
শুরুর জড়তা কাটিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেল স্পেন, কিন্তু সতর্ক ফুটবলে রক্ষণে দেওয়াল তুলে তার প্রায় সবকটিই রুখে দিল সার্বিয়া। ফলে বড় ধাক্কা খেয়ে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করলে সম্প্রতি ইউরো জিতে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
বৃহস্পতিবার রাতে নেশন্স লিগের শুরু ম্যাচে গত মৌসুমে প্রোমোশন পেয়ে মূল পর্বে আসা সার্বিয়ার বিপক্ষে জয়বঞ্চিত হয়েছে টুর্নামেন্টে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দেশটির রাজধানী বেলগ্রেডে অনুষ্ঠিত লিগ ‘এ’ এর গ্রুপ-৪ এর ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে।
ম্যাচে ৭৪ শতাংশ সময় বলের দখল রেখে মোট ২১ শট নেয় স্পেন, যার পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। অন্যদিকে সার্বিয়ার আটটি প্রচেষ্টার মাত্র একটি ছিল লক্ষ্যে।
এদিন কিছুটা ধীরগতিতে ম্যাচ শুরু করে স্পেন। বল দখলে রেখে খুবই স্লো ফুটবল খেলতে শুরু করে তারা। অন্যদিকে, সজাগ থেকে স্পেনের আক্রমণে ওঠার মুহূর্তের অপেক্ষা করতে থাকে সার্বিয়া। প্রথম দিকে আক্রমণে উঠলেও সময়ের পরিক্রমায় স্পেন যখন খোলস ছেড়ে বের হতে শুরু করে, তখন দুই ধাপে ৯ জন খেলোয়াড়ের রক্ষণ দুর্গ তৈরি করে তারা। ম্যাচজুড়ে যে কোনোভাবে গোল ঠেকাতে মরিয়া ছিল সার্বিয়া।
আরও পড়ুন: রেকর্ড চতুর্থবার শিরোপা জিতে নবযুগের সূচনা করল স্পেন
অষ্টম মিনিটে ম্যাচের প্রথম সুযোগ পায় সার্বিয়া। নিজেদের বক্স থেকে বল ধরে পাল্টা আক্রমণে উঠে গোলের ভালো সম্ভাবনা তৈরি করে স্বাগতিকরা। তবে শেষ পর্যন্ত স্প্যানিশ রক্ষণে তা প্রতিহত হয়ে যায়।
এরপর দশম ও দ্বাদশ মিনিটেও দুটি আক্রমণে ওঠে সার্বিয়া, তবে ভালো ফিনিশিংয়ের অভাবে সেগুলো আলোর মুখ দেখেনি। এরপর নিজেদের স্বভাবজাত ফুটবলে ফেরে স্পেন।
অষ্টাদশ মিনিটে মুহূর্মুহু আক্রমণে সার্বিয়ার রক্ষণ কাঁপিয়ে দেয় চ্যাম্পিয়নরা। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের রুখে দেয় সার্বিয়ার জমাট রক্ষণ।
দুই মিনিট পর আরও দুটি আক্রমণ শানায় স্পেন। তবে দানি কারভাহালের শট পোস্টের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর ২৪তম মিনিটে মার্তিন জুবিমেন্দির দুর্বল শট লুফে নেন সার্বিয়ান গোলরক্ষক।
২৮তম মিনিটে পাল্টাপাল্টি দুটি পাল্টা আক্রমণ দেখে সমর্থকরা। দুই দলেরই রক্ষণভাগ এসময় নড়বড়ে হয়ে গেলেও গোল খাওয়া থেকে শেষমেষ বেঁচে যায় দুপক্ষই।
৩২তম মিনিটে গোল পেয়েই যাচ্ছিল স্পেন, তবে ফরোয়ার্ড আয়োসে পেরেসের বুলেট শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন সার্বিয়ান গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর প্রায় ফাঁকা গোলপোস্ট পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন সার্বিয়ার এসি মিলান স্ট্রাইকার লুকা ইয়োভিচ।
পাল্টা আক্রমণে উঠে দ্রুতগতিতে বল নিয়ে স্পেনের বক্সের সামনে গিয়ে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে চকিতে বক্সে ঢোকা ইয়োভিচকে পাস বাড়ান আন্দ্রিয়া জিভকোভিচ। এসময় স্পেনের গোলরক্ষক দাভিদ রায়াও খানিকটা সামনে চলে এসেছিলেন। কিন্তু ডান পাশ থেকে তাড়াহুড়া করতে গিয়ে দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে বল মারেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড ইয়োভিচ। ফলে নিশ্চিত গোলের সুযোগবঞ্চিত হয় সার্বিয়া।
পরের মিনিটে দুই পাশে দুটি জোরালো শটে গোল পাওয়ার চেষ্টা করে দুই দল। তবে কোনো শটই গোল নিয়ে আসতে পারেনি।
বাকি সময়টুকু সার্বিয়াকে চেপে ধরে গোল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে স্পেন, কিন্তু সার্বিয়ার রক্ষণভাগ সতর্কতার সঙ্গে তাদের রুখে দিলে জাল অক্ষত রেখেই বিরতিতে যায় দুই দল।
৫৪৭ দিন আগে
ব্যালন দ’র: ফেভারিটদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্ব ফুটবলের সেরা ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন দ’রের জন্য মনোনীত ৩০ ফুটবলারার সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর কেউ। ফলে ফুটবলের নতুন যুগের শুরুতে কে বা কারা হবেন পোস্টার বয়, এ বছরের ব্যালন দ’র জেতার মাধ্যমেই তা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
আগামী ২৮ অক্টোবর প্যারিসে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। ক্রীড়া সাংবাদিকদের ভোটে এই পুরস্কার বিজয়ী নির্বাচিত হয়ে থাকে।
রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়ন লিগ জেতার পর ব্যালন দ’র জয়ের পর সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ক্লাবটির ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম। তবে ইউরোতে ইংল্যান্ড টেনেটুনে ফাইনালে উঠে স্পেনের কাছে হারের পর বেলিংহ্যামের নাম পরবর্তীতে ফিকে হয়ে গেছে।
এছাড়া ঘরোয়া লিগে অসাধারণ পারফর্ম করেছেন আরও বেশ কয়েকজন। কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড, হ্যারি কেইনের মতো তারকারা রয়েছেন এই কাতারে। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তাদের কেউই নজর কাড়তে না পারায় পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকলেও ব্যালন দ’রের লড়াই তারা বেশ খানিকটা পিছিয়ে পড়বেন বলেই মনে হয়।
আরও পড়ুন: ২১ বছর পর ব্যালন দ’র লড়াইয়ে নেই মেসি-রোনালদো
এদের মধ্যে কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম আসে সবার আগে। পিএসজিতে থাকাকালে গত মৌসুমে ৫২ গোল ও ২১টি অ্যাসিস্ট করেছেন চলতি মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া এই স্ট্রাইকার। জিতেছেন লিগ-১, ফেঞ্চ কাপ ও ফরাসি সুপার কাপ। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন লিগের সেমিফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে হেরে পিএসজির বিদায় নেওয়ার পর ইউরোতেও সেমিফাইনালে হারে এমবাপ্পের ফ্রান্স। এছাড়া নাকে আঘাত লেগে অসুস্থ থাকায় ইউরোয় তার পারফরম্যান্সও ছিল সাদামাটা।
বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইনও গত মৌসুমে করেছেন ৫২ গোল, সেই সঙ্গে ১৪টি অ্যাসিস্ট রয়েছে তার নামের পাশে। কিন্তু গাদা গাদা গোল করেও বায়ার্নকে বুন্দেসলিগা জেতাতে পারেননি এই স্ট্রাইকার। শুধু বুন্দেসলিগা কেন, ঘরোয়া-চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে গত মৌসুমে জার্মান জায়ান্টদের কোনো ট্রফিই জেতাতে পারেননি কেইন। এরপর টুর্নামেন্টজুড়ে বিবর্ণ ফুটবল খেলে ইউরোর ফাইনালে উঠলেও সেখানে স্পেনের কাছে হেরে হতাশ হতে হয় ইংল্যান্ড অধিনায়ককে।
তাদের মতো আরও একজন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। ৪৫ গোল, ৬ অ্যাসিস্টের মাধ্যমে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ ও উয়েফা সুপার কাপ জিতলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হন তিনি। এছাড়া ইউরো বাছাইপর্বই উৎরাতে ব্যর্থ হয়েছে হালান্ডের নরওয়ে। ফলে প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট জিতলেও জাতীয় দলের জার্সিতে প্রাপ্তির খাতায় কিছুই না থাকায় ব্যালন দ’র প্রতিযোগিতায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়বেন তিনি।
সার্বিক দিক বিবেচনা করলে এবারের ব্যালন দ’র জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র, ক্লাবটির স্প্যানিশ অধিনায়ক দানি কারভাহাল, ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি এবং ইন্টার মিলানের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেস।
ভিনিসিউস জুনিয়র
গত মৌসুমে লা লিগা, স্প্যানিশ সুপার কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতায় এবারের ব্যালন দ’র জয়ের দৌঁড়ে ভিনিসিউসকে অনেকেই এগিয়ে রাখছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে দলের ২-০ ব্যবধানের জয়ে একটি গোল ছিল তার। পাশাপাশি মোট ৬ গোল করে টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি।
আরও পড়ুন: ব্যালন দ’র: ভিনিসিউস, বেলিংহ্যামকে ফেভারিট মনে করেন না কারভাহাল
২০২৩-২৪ মৌসুমে লা লিগায় ভিনিসিউসের গোলসংখ্যা ১৫টি। এছাড়া স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। সব মিলিয়ে গত মৌসুমে ২৬ গোল ও ১২টি অ্যাস্টি করেছেন এই উইঙ্গার।
তবে ক্লাবের হয়ে আলো ছড়ালেও জাতীয় দলের জার্সিতে মোটেও ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি ভিনিসিউস। সর্বশেষ কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় ভিনির ব্রাজিলকে।
দানি কারভাহাল
সেদিক থেকে হিসাব করলে ব্যালন দ’রের দৌড়ে এগিয়ে থাকার কথা ভিনিসিউসেরই ক্লাব সতীর্থ দানি কারভাহালের। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ভিনির সমপরিমাণ ট্রফি জেতার পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কারভাহাল। ফুটবলের পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক হিসেবে মাঠে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন ৩২ বছর বয়সী এই উইংব্যাক।
ডিফেন্ডার হয়েও গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে সব মিলিয়ে ৪১ ম্যাচে ৭টি গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট রয়েছে তার নামের পাশে।
লাউতারো মার্তিনেস
দলীয় ও ব্যক্তিগত অর্জনের হিসাব ধরলে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন লাউতারো মার্তিনেস। ইতালির ঘরোয়া ফুটবলে সেরি-আ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তার ইন্টার মিলান। লিগে ৩৩ ম্যাচ খেলে ২৪ গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন এই আর্জেন্টাইন। সেরি-আয় গত মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি লিগের গোল্ডেন বুটও (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন তিনি। এ ছাড়াও ইন্টারের হয়ে গত মৌসুমে ইতালিয়ান সুপার কাপ জিতেছেন মার্তিনেস।
এরপর জাতীয় দলের জার্সিতে আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় কোপা আমেরিকা জয়ে তার ছিল বড় ভূমিকা। ফাইনালে ২৭ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের একমাত্র গোলেই চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে জেতেন কোপা আমেরিকার গোল্ডেন বুটও।
সব মিলিয়ে গত মৌসুমে ৫৮ ম্যাচে ৩৫ গোল ও আটটি অ্যাসিস্ট করেছেন এই আর্জেন্টাইন।
রদ্রি
এবারের ব্যালন দ’রের লড়াইয়ে সমানে টক্কর দেবেন রদ্রিও। গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ জিতেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে গেলেও মাঠের খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী ভিনিসিউসের দলের বিপক্ষে দারুণ পারফর্ম করেন এই কন্ট্রোলিং মিডফিল্ডার। ওপেন প্লেতে ড্র করে শেষে টাইব্রেকারে রিয়ালের কাছে হারে সিটি।
আরও পড়ুন: রদ্রির ব্যালন দ’র নিশ্চিত হয়ে গেছে
এরপর স্পেনের জার্সিতে ইউরো আসরজুড়ে আলো ছড়ান ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ইউরোর সাত ম্যাচের সাতটিই জিতে স্পেনকে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন করতে মূলত নাবিকের ভূমিকা পালন করেন রদ্রি।
প্রতিটি ম্যাচের রাশ তার হাতে দিয়েছিলেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে, আর নিখুঁতভাবে ম্যাচের গতি কমানো-বাড়ানো, চুলচেরা সব পাস, বল দখলে দলকে নেতৃত্ব দেওয়াসহ প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণগুলো মাঝমাঠেই নিষ্ক্রিয় করে দিয়ে স্পেনকে রেকর্ড চতুর্থবারের মতো ইউরো চ্যাম্পিয়ন করতে মাঝমাঠে সতীর্থ ও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ওপর ছড়ি ঘোরান তিনি। তাই এবারের ব্যালন দ’রের ভোটে তাকে নির্বাচিত না করতে সাংবাদিকদের যে ঘাম ছুটবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।
সর্বোপরি, পরিপূর্ণ একটি মৌসুম কাটাতে পারেননি ফেভারিটদের কেউই। কেউ ক্লাব ফুটবলে নজর কাড়লেও কেউ কেড়েছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে। আবার ঘরোয়া টুর্নামেন্টে কেউ দাপট দেখালেও অন্যজন দেখিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। কেউ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ঘরোয়া ফুটবল মাতালেও জাতীয় দলের জার্সিতে তার অর্জন নেই বললেই চলে, যেখানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে না পারলেও ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে অন্যজন ছিলেন অসাধারণ। ফলে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি মাঠের খেলায় কে কতটা ভূমিকা রাখতে পেরেছেন, তা বিবেচনায় নিয়েই এ বছরের সেরা ফুটবলার নির্বাচন করতে হবে ভোটারদের। আর এক্ষেত্রে ফেভারিট যে কারও হাতে ব্যালন দ’র উঠলেই অবাক না হওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকবে।
৫৪৭ দিন আগে
২১ বছর পর ব্যালন দ’র লড়াইয়ে নেই মেসি-রোনালদো
অনেক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বুধবার রাতে ঘোষণা করা হয়েছে ব্যালন দ’রে মনোনয়ন পাওয়া ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকা। ৩০ জনের এই তালিকায় ২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম দেখা যায়নি ইন্টার মায়ামির আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি এবং আল নাসরের পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে।
গত ১৬ বছরের মধ্যে ১৩ বারই বিশ্ব ফুটবলের সেরা এই ব্যক্তিগত পুরস্কার ভাগাভাগি করেছেন বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের দুই গ্রেট। ২০২৩ সালে সর্বশেষ ব্যালন দ’র জেতেন মেসি। সেটি ছিল কোনো ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যালন দ’র জয়। তবে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর গত বছর থেকেই ব্যালন দ’রের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচবার এই পুরস্কার জেতা রোনালদো।
২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই দুজনের আধিপত্যে ব্যালন দ’র স্পর্শ করতে পারেননি আর কোনো ফুটবলার। পরের বছর এটি জেতেন রিয়াল মাদ্রিদের ক্রোয়াট মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ। এরপর ২০১৯ সালে ষষ্ঠবারের মতো মেসির হাতে ওঠে পুরস্কারটি। এর ফলে তিনি রোনালদোকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ ব্যালন দ’র জয়ের চূড়ায় ওঠেন।
আরও পড়ুন: রদ্রির ব্যালন দ’র নিশ্চিত হয়ে গেছে
কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২০ সালে পুরস্কারটি স্থগিত করে ফেঞ্চ ফুটবল। সেবার দুর্দান্ত পারফর্ম করে ব্যালন দ’র জয়ের দৌড়ে সবার চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন তৎকালীন বায়ার্ন মিউনিখ ও বর্তমান বার্সেলোনা স্ট্রাইকার রবের্ট লেভানডোভস্কি। তবে পরের বছর আবারও জিতে রোনালদোর সঙ্গে ব্যবধান আরও বাড়ান মেসি। তারপর ২০২২ সালে তৎকালীন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা জেতেন পুরস্কারটি। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জেতার পর ২০২৩ সালে অষ্টমবারের মতো ব্যালন দ’র জিতে অনন্য উচ্চতায় ওঠেন মেসি।
গত মৌসুমে আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকা জিতলেও ক্লাব ফুটবলে খুব বেশি অর্জন ছিল না লিওনেল মেসির। অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ মৌসুমে সৌদি প্রো লিগে ৩১ ম্যাচে ৩৫ গোল এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে ৪৪ গোল করেন রোনালদো। কিন্তু গত জুন-জুলাইয়ে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ইউরোয় পর্তুগালের পাঁচ ম্যাচে একবারও জালের দেখা পাননি ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় বিদায় নিতে হয় ২০১৬ আসরের চ্যাম্পিয়নদের।
এবারের ব্যালন দ’র জেতার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলীয় ফরোার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র, ক্লাবটির স্প্যানিশ অধিনায়ক দানি কারভাহাল, ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি এবং ইন্টার মিলানের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেস।
আরও পড়ুন: ব্যালন দ’র: ভিনিসিউস, বেলিংহ্যামকে ফেভারিট মনে করেন না কারভাহাল
ব্যালন দ’রের জন্য মনোনীত ৩০ জন: জুড বেলিংহ্যাম (রিয়াল মাদ্রিদ), রুবেন দিয়াস (ম্যানচেস্টার সিটি), ফিল ফোডেন (ম্যানচেস্টার সিটি), ফেদেরিকো ভালভার্দে (রিয়াল মাদ্রিদ), এমিলিয়ানো মার্তিনেস (অ্যাস্টন ভিলা), আর্লিং হালান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি), নিকো উইলিয়ামস (আথলেতিক বিলবাও), গ্রানিট জাকা (বায়ের লেভারকুজেন), আর্তেম দবভিক (জিরোনা/রোমা), টনি ক্রুস (রিয়াল মাদ্রিদ), ভিনিসিউস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), দানি অলমো (লাইপসিগ/বার্সেলোনা), ফ্লোরিয়ান ভিয়ার্টস (বায়ের লেভারকুজেন), মার্টিন ওডেগোর্ড (আর্সেনাল), মাটস হুমেলস (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড), রদ্রি (ম্যানচেস্টার সিটি), হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ), ডেকলান রাইস (আর্সেনাল), ভিতিনিয়া (পিএসজি), কোল পালমার (ম্যানচেস্টার সিটি/চেলসি), দানি কারভাহাল (রিয়াল মাদ্রিদ), লামিন ইয়ামাল (বার্সেলোনা), বুকায়ো সাকা (আর্সেনাল), হাকান চালানোলু (ইন্টার মিলান), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল), কিলিয়ান এমবাপ্পে (পিএসজি/রিয়াল মাদ্রিদ), লাউতারো মার্তিনেস (ইন্টার মিলান), আদেমোলা লুকমান (আতালান্তা), আন্টোনিও রুয়েডিগার (রিয়াল মাদ্রিদ) ও আলেক্স গ্রিমালদো (বায়ের লেভারকুজেন)।
৫৪৭ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি থেকে ছিটকে গেলেন বাটলার
ডান পায়ের গোড়ালির ইনজুরি থেকে এখনও পুরোপুরি সেরে না ওঠায় চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে পারবেন না ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) তার দলে না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। এদিন ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ইংল্যান্ড।
তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে না থাকলেও চলতি মাসের শেষের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য তাকে দলে রাখা হয়েছে।
গত জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেন বাটলার। পরের মাসে দ্য হান্ড্রেডের জন্য প্রস্তুতির সময় চোট পান তিনি। ফলে ওই টুর্নামেন্টে আর মাঠে নামা হয়নি তার। এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজও মিস করছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
বাটলারের অনুপস্থিতিতে এই সিরিজে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেবেন ফিলিপ (ফিল) সল্ট।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দলে রাখা হলেও বাটলারের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছেই। তিনি খেলতে না পারলে ওয়ানডেতে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতে পারেন হ্যারি ব্রুক।
আরও পড়ুন: ইংলিশ ক্রিকেটের তিন সংস্করণেরই দায়িত্বে ম্যাককালাম
টি-টোয়েন্টি দলে বাটলারের পরিবর্তে ডাক পেয়েছেন টেস্টে অভিষেক হলেও সাদা বলে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা অলরাউন্ডার জেমি ওভারটন। এছাড়া টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পাওয়া জর্ডান কক্সকে কভার হিসেবে ওয়ানডে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান জ্যাকব বেথেল ও পেসার জন টার্নার ডাক পেয়েছেন দুই সংস্করণেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওভাল টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্যারিয়ার শুরু করতে যাওয়া জশ হালও আছেন দুই সংস্করণের দলে।
আগামী ১১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং ১৯ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়ানডে সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে।
ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড: ফিল সল্ট, জোফরা আর্চার, জ্যাকব বেথেল, ব্রাইডন কার্স, জর্ডান কক্স, স্যাম কারান, জশ হাল, উইল জ্যাকস, লিয়াম লিভিংস্টোন, সাকিব মাহমুদ, ড্যান মুসলি, জেমি ওভারটন, আদিল রশিদ, রিস টপলি ও জন টার্নার।
ইংল্যান্ড ওয়ানডে স্কোয়াড: জস বাটলার, জোফরা আর্চার, গাস অ্যাটকিনসন, জ্যাকব বেথেল, হ্যারি ব্রুক, ব্রাইডন কার্স, জর্ডান কক্স, বেন ডাকেট, জশ হাল, উইল জ্যাকস, ম্যাথু পটস, আদিল রশিদ, ফিল সল্ট, জেমি স্মিথ, রিস টপলি ও জন টার্নার।
৫৪৭ দিন আগে
বর্ণবাদ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে স্পেনে বিশ্বকাপ চান না ভিনিসিউস
বর্ণবাদ ইস্যুতে উন্নতি না হলে স্পেন থেকে ২০৩০ বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র।
ক্যারিয়ারে অসংখ্যাবার বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার। মাদ্রিদে আসার পরও বিপক্ষ দলের সমর্থকদের কাছ থেকে বারবার হেনস্তার শিকার হন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুনে ভ্যালেন্সিয়ার তিন সমর্থককে আট মাসের কারাদণ্ড দেয় স্পেনের একটি আদালত।
স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করবে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। গত সপ্তাহে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভিনিসিউস বলেন, এ বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি না হলে ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, ‘২০৩০ সাল পর্যন্ত আমাদের পরিবর্তনের অনেক জায়গা আছে। আশা করি, স্পেন (মানসিকভাবে) আরও বিকশিত হবে এবং বুঝতে পারবে যে গায়ের রঙের কারণে কাউকে অপমান করা কতটা গুরুতর অপরাধ।’
‘যদি ২০৩০ সালের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, আমি মনে করি আমাদের (বিশ্বকাপ) ভেন্যু সরিয়ে নিতে হবে। কারণ বর্ণবাদের শিকার হতে পারে- এমন আশঙ্কা যদি কোনো খেলোয়াড়ের থাকে, তাহলে তিনি সেই দেশে খেলতে মোটেও স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ বোধ বোধ করেন না। সেখানে তার জন্য খেলা কঠিন।’
ভিনিসিউসের এমন মন্তব্য স্পেনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ নিয়ে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন যে, ভিনিসিউস ভুলভাবে স্পেনকে বর্ণবাদী দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এল চিরিঙ্গিতোয় এক শোতে মাদ্রিদ ও স্পেনের সাবেক গোলরক্ষক পাকো বুইয়ো বলেছেন, ‘দেশের সবাইকে এক কাতারে ফেলেছেন ভিনিসিউস, বিষয়টি ভাবলেই কষ্ট পাচ্ছি।’
আরও পড়ুন: ভিনিসিউসের জন্য সৌদির ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব ফেরাল রিয়াল
ভিনিসিউসের মন্তব্যে ক্ষেপেছেন মাদ্রিদের মেয়র হোসে লুইস মার্তিনেস-আলমেইদাও। বুধবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় রিয়াল তারকার বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।
মেয়র বলেন, ‘আশা করি, অবিলম্বে তিনি এই বক্তব্য সংশোধন করবেন। হ্যাঁ, আমাদের সমাজে এখনও কিছু বর্ণবাদী ঘটনা ঘটছে এবং তাদের নির্মূল করার জন্য কঠোর পরিশ্রমও করছি আমরা। তবে স্পেন ও মাদ্রিদকে নিয়ে ঢালাওভাবে এটি বলা অন্যায় যে, আমরা একটি বর্ণবাদী সমাজ, যেমনটি তিনি বলেছেন।’
‘তার এই মন্তব্য মাদ্রিদ ও স্পেনে ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তিনি একজন অসাধারণ ফুটবলার, তার মানে এই নয় যে, মুখে যা আসে তিনি তা-ই বলবেন। অথচ সেটিই তিনি করে চলেছেন।’
মাদ্রিদ ও স্পেনের মানুষের কাছে ভিনিসিউসের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন মার্তিনেস-আলমেইদা।
৫৪৮ দিন আগে