ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে চলতি অর্থবছরে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি সাশ্রয় হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) টিসিবির সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির কার্যক্রমের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ভর্তুকির অপচয় আরও উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এখনও পুরোপুরি নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর হয়ে ওঠেনি। উৎপাদক পর্যায় থেকে পণ্য শহর বা রাজধানীর খুচরা বাজারে পৌঁছানোর পর অনেক ক্ষেত্রে দামের বড় ব্যবধান তৈরি হয়। আবার সাময়িক সরবরাহ ঘাটতিও বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতিতে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে টিসিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে টিসিবির সেবায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে টিসিবির সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নেওয়া বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল টিসিবি কার্ড, ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ডিলার ব্যবস্থাপনা, অল-ইন-ওয়ান পিওএস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)ভিত্তিক রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা।
৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারী বাদ
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি যাচাইকৃত ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছে।
সরকারি ভর্তুকি যেন প্রকৃত ও যোগ্য উপকারভোগীর কাছেই পৌঁছে, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ডেটাবেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
বর্তমানে প্রায় ৭৯ লাখ উপকারভোগী টিসিবির সেবার আওতায় রয়েছেন। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।