জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও তার দল জামায়াতে ইসলামী কখনোই সুষ্ঠুভাবে চিন্তা করে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, বিভিন্নভাবে বিএনপির কর্মকাণ্ডের ওপর ধূম্রজাল সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে; বিভেদ সৃষ্টি করার পাঁয়তারা চলছে। ৫ আগস্টের পর দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটি নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেছেন— বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, তিনি বা তার দল কখনোই সুস্থভাবে চিন্তা করেন না।
তিনি বলেন, সমগ্র পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যবেক্ষক, বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান ও পত্রপত্রিকা-মিডিয়া এক বাক্যে স্বীকার করেছে যে, এই নির্বাচনটি ছিল বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে সবচেয়ে নিরপেক্ষ, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। সেই সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনপ্রিয়তা যাচাই করে বিএনপি ২১৩টি আসন লাভ করে সরকার গঠন করার সুযোগ পেয়েছে। সুতরাং জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই বক্তব্য আমরা শুধু প্রত্যাখ্যানই করছি না, নিন্দা জানাচ্ছি এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে বিভিন্নভাবে বিএনপির কর্মকাণ্ডের ওপর ধূম্রজাল সৃষ্টির প্রচেষ্টা চলছে; বিভেদ সৃষ্টি করার পাঁয়তারা চলছে। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুযোগ আমরা পেয়েছি, সেই প্রচেষ্টাকে নষ্ট করে দিয়ে তারা (জামায়াত) দেশে আবার একটি ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচারী শাসনের পাঁয়তারা করছে কি না, সেটা দেশবাসীকে চিন্তা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তাদের (জামায়াত) অতীত ইতিহাস আমরা সবাই খুব ভালো করে জানি। সেই কারণেই সমগ্র জাতি অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামীতে যেন রাজনৈতিকভাবে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা যায়, আমাদের সেভাবেই কাজ করতে হবে।’
আগামী ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে সমাবেশ করবে বিএনপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিক দল। ওই দিন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেলা আড়াইটায় এই সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন।
দলীয় সমাবেশ সফল করার জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ঢাকাতে আমরা এই দিবসটিকে একটি উৎসবের দিন এবং একইসঙ্গে রাজনৈতিক শপথ গ্রহণের দিন হিসেবে নিতে চাই। জেলা ও উপজেলা ইউনিটগুলোকেও একইভাবে দিবসটি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার জন্য একটি পক্ষ প্রথম থেকেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াকে অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে অফুরন্ত মিথ্যাচার, প্রোপাগান্ডা ও ফেক ইনফরমেশন ছড়িয়ে বিএনপিকে জনগণের কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে; কিন্তু তারা সফল হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এখনো দেখবেন, বিভিন্ন কার্টুন তৈরি করে দেশে একটা অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত অবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। ছাত্র রাজনীতিতেও এ ধরনের কলুষিত অবস্থা তৈরির প্রচেষ্টার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বাংলাদেশের স্বাধীন ও সচেতন ছাত্র সমাজ এবং জনগণ বরাবরই অপরাজনীতিকে পরিহার করেছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপকর্ম তারা প্রতিরোধ করবে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী ও সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন ও বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু।