জামালপুরে গৃহবধূ অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জামালপুর পৌর এলাকার খুপিবাড়ী গ্রামের বুলবুল আহমেদ (৪৭), পাথালিয়া নাওভাঙ্গা চর গ্রামের কালাম ওরফে মাক্কু (৫২) এবং একই গ্রামের রুকু (৫৭)।
জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, শহরের পাথালিয়া নাওভাঙ্গা চর গ্রামের মো. ফরহাদ তার স্ত্রীকে নিয়ে বাসার পাশে শাহ জামাল (রহ.) মাজারের সামনে একটি চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। সে সময় বুলবুল আহমেদ, কালাম ওরফে মাক্কু ও রুকু প্রায়ই তাদের দোকানের সামনে এসে ওই গৃহবধূর দিকে খারাপ নজর ও কুপ্রস্তাব দিতেন। এতে বাধা দিলে তারা ওই নারীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এর জের ধরে ২০২৩ সালের ১৪ মে রাত ১০টার দিকে শাহ জামাল (রহ.) মাজারের সামনে থেকে ভুক্তভোগীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে অপহরণ করেন আসামিরা। তারা প্রথমে তাকে খুপিবাড়ী গ্রামের বুলবুলের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে রুকুর সঙ্গে তাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। ভুক্তভোগী বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে মারধর করেন। এরপর তিন আসামি মিলে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে তারা অটোরিকশায় করে নাওভাঙ্গা চর গ্রামের রুকুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে আবারও ধর্ষণ করা হয়। পরদিন ১৫ মে ওই গৃহবধূ পালিয়ে এসে তার স্বামীকে ঘটনার বিস্তারিত জানান।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর স্বামী ফরহাদ বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা করেন। পরে মামলাটি জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ স্থানান্তর করা হয়।
মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আজ এ রায় ঘোষণা করলেন।
এ ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক ও এস এম কামরুল হাসান উল্লাস।