মুন্সীগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছোটবড় অন্তত ৩২টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রবিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উচ্ছেদ করা স্থাপনাগুলোর মধ্যে খাবারের হোটেল, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটের প্রবেশমুখ ও আশপাশের সরকারি জায়গা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছিল। স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে জায়গা দখল করে স্থাপনাগুলো নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।
তবে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তাদের কোনো ধরনের আগাম নোটিশ না দিয়েই হঠাৎ করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অভিযান চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘আগে কী হয়েছে সেটা দেখার বিষয় নয়। অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে সরকারের স্পষ্ট বার্তা রয়েছে। সরকারি জায়গা দখল করে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানা আক্তার বলেন, লঞ্চঘাটের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি আমাদের নজরে ছিল। বিআইডব্লিউটিএর উদ্যোগে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা হয়েছে। সরকারি জায়গা দখল করে কেউ যাতে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকায় এর আগেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আবার সেখানে অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে ওঠে। সেগুলো উচ্ছেদ করতেই এবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, লঞ্চঘাটের জায়গা দখল করে ভবিষ্যতে যাতে কেউ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি করা হবে। উচ্ছেদে এক একর জমি দখলমুক্ত করা হয়, যার মূল্য শত কোটি টাকা।