সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।
বুধবার (১৩ মে) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মারা যাওয়া শিশুরা হলো— সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ২ বছর ৩ মাস বয়সী হাফিজা আক্তার, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ১ বছর ৪ মাস বয়সী রাইসা জান্নাত এবং ছাতকের ৮ মাস বয়সী আরিয়া জান্নাত। এদের মধ্যে দুজন এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অপরজন ডা. শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় জানিয়েছে, গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল ৮টা থেকে আজ (বুধবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২১৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি আছে ১১০ জন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে ৫০ জন। এছাড়া সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালেও হামে আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে।
কেবল গত ২৪ ঘণ্টায় শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ২৬ জন রোগী।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৭ জনে।
হাম রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমএ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গত ১১ মে থেকে ৩২ শয্যার বিশিষ্ট ‘হাম আইসোলেশন ইউনিট’ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে ৫ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। সবমিলিয়ে বর্তমানে সিলেটে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২টিতে।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর মুনীর রাশেদ বলেন, ‘হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালে রোগীদের স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। এজন্য শিশু ওয়ার্ডে বিশেষ হাম আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে এবং আইসিইউ সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে।’
এদিকে, এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ২৭টি শিশু।