প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশের পর পদত্যাগ করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ফেরদৌসী আহমেদ আমার কার্যালয়ে এসে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে তার আসনটি শূন্য হয়ে গেছে।
আজ থেকেই পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পদত্যাগের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে।
স্পিকার বলেন, সংসদের বিধি অনুযায়ী, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময় কোনো কারণ উল্লেখ করার নিয়ম নেই।
দুপুর দেড়টার দিকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি স্পিকারের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং কয়েক মিনিট সেখানে থাকার পর বেরিয়ে আসেন।
স্পিকারের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, স্পিকার আমাকে ডেকেছিলেন, আমি তার সঙ্গে দেখা করেছি।
তবে পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ফেরদৌসী আহমেদ।
এর আগে দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
ঢাকার মিরপুরে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ২৪ সেপ্টেম্বরের হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনায় মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল।
মধ্যরাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা ও ভাঙচুর হয়। এতে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তবে মিষ্টি এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসন রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সংখ্যার অনুপাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত আসন বণ্টন করা হয়।
বর্তমান সংসদে বিএনপি থেকে সংরক্ষিত আসনে মোট ৩৬ জন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া জামায়াত থেকে ৯ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে দুজন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা থেকে একজন করে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যদের গেজেট ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত হয় এবং তারা ৩ মে শপথ নেন। সেই হিসাবে শপথ নেওয়ার প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যেই সংসদ থেকে পদত্যাগ করলেন মিষ্টি।