চুয়াডাঙ্গার কুন্দিপুর গ্রামে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ভুট্টাখেতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে হুমকির ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন। এরপর ৩ আসামি গ্রেপ্তার হলেও প্রধান আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহারে যায়, গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে ছাগল আনতে মাঠে যায় ওই কিশোরী। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা মিরাজ তাকে জোরপূর্বক ভুট্টাখেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় পলাশ আলী (২০) মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে এবং জনি হোসেন (২১) বাইরে পাহারা দেয়।
ধর্ষণের পর তারা তিনজন মিলে ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে বলে, মুখ খুললে ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেবেন তারা। এ কারণে ভুক্তভোগী কিশোরী বিষয়টি দীর্ঘদিন পরিবারকেও জানাতে পারেনি।
ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পর, ২০ মে হঠাৎ করেই ধর্ষণের সেই ভিডিও এলাকায় বিভিন্ন মানুষের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর পরিবার আবারও হুমকির শিকার হয়।
এজাহারে ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেছেন, পলাশ আলী ভিডিও মুছে ফেলার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। এছাড়া ওই গ্রামের আব্দুল আলী (৪৫) সামাজিকভাবে মীমাংসার নামে ভিডিও মুছে ফেলার জন্য ৫ হাজার টাকা দাবি করেন।
তবে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার খবর এবং মামলা হওয়ার পর তৎপর হয় চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ। এরই ধারাবহিকতায় গতকাল (বুধবার) গভীর রাতে কুন্দিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— আব্দুল আলী (৪৫), জনি হোসেন (২১), ও পলাশ আলী (২০)।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালাই। এ ঘটনায় ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রধান আসামি মিরাজকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।