রংপুরের কাউনিয়ায় শরীর ম্যাসাজের কথা বলে কক্ষে ডেকে এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে আজিজুল হাকিম (২৪) নামের এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় মামলাটি করেন।
অভিযুক্ত আজিজুল হাকিম রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমপাড়া নাটারাম এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও ভুক্তোভোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে কাউনিয়া উপজেলার একটি মাদরাসায় আবাসিক শিক্ষার্থীরা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষক আজিজুল তার শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী ছাত্রকে তার কক্ষে ডেকে নেন। একপর্যায়ে তিনি ওই ছাত্রকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি গোপন রাখতে তিনি ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এরপর গত সোমবার রাতে আবারও ওই ছাত্রকে কক্ষে ডেকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন আজিজুল। এ সময় টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে সে বাড়িতে চলে যায়।
ভুক্তভোগী তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে তারা ওই রাতেই মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়।
তবে আপস-মীমাংসার কথা বলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকরা বলছেন, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে সালিশ করার আশ্বাস দিয়ে তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। পরে অভিযুক্তকে মাদরাসা পরিচালকের ছেলের জিম্মায় রেখে অন্য শিক্ষকরা ক্লাসে চলে যান। এই সুযোগে তাকে গোপনে সরিয়ে দেওয়া হয়।
মাদরাসা পরিচালকের ছেলে রায়হান বলেন, সকালে সবার অগোচরে ওই শিক্ষক পালিয়ে গেছেন। তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
ভুক্তভোগী ছাত্রের ভাষ্য, শিক্ষক আজিজুল প্রায়ই রাতে তাকে শরীর ম্যাসাজের কথা বলে কক্ষে ডাকতেন। এমনকি তাকে বাঁশের লাঠি, রড ও পাইপ দিয়ে মারধরও করতেন। সোমবার রাতেও একইভাবে তাকে ডেকে নেন। পরে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে বের হয়ে বাড়িতে চলে যায় সে।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মাদরাসা শিক্ষক আজিজুল হাকিমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।