মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা এ শ্রদ্ধা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোর ৫টা ৫৩ মিনিটে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে পৌঁছান। রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তারা বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায় এবং বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে পুনরায় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। এরপর তারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন। এছাড়া প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি এবং দেশের উত্তরোত্তর কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।
রাষ্ট্রীয় অতিথিতের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবাবের সদস্যরা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিদেশি কূটনীতিকরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে, ভোরে রাজধানীতে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হওয়ার পর জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।