ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চাঞ্চল্যকর পাঁচ বছরের শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নদীতে ফেলে হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে তাদের দুই লাখ টাকা করে জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আরিফ, রাকিব ও সিয়াম। এই মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক অপর আসামি মারুফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে শিশু নিছামনিকে ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৫ জুন নিছামনির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মামলার মাত্র ৯ দিনে ৪ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মধ্যে আদালত তিন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, রায়ে নিছামনির বাবা-মা সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। তারা এই রায় কার্যকর করতে সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।
নিছামনির মা বলেন, ‘এই রায় দ্রুত কার্যকর হলে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’
বাবা তাজু মিয়া বলেন, আমার মেয়ের বয়স ছিল ৪ বছর ৭ মাস। এই বয়সের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যার পর পানিতে ফেলে দেয়। এই ঘটনা যে শুনেছে, সে-ই কেঁদেছে। আমি দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই এবং সরকার যেন এই রায় দ্রুত কার্যকর করে, সেই দাবি জানাই।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।